
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ১২৫০ হেক্টর আয়তনের এই চিরহরিৎ সংরক্ষিত বনাঞ্চলটি কেবল একটি বন নয়, বরং এটি বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী ও দুর্লভ উদ্ভিদের এক বিশাল জীবন্ত জাদুঘর।
ইতিহাস ও জীববৈচিত্র্য: ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই এই বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা ১৯৯৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। বর্তমানে এখানে ৪৬০ প্রজাতিরও বেশি দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৪ প্রজাতির উভচর ও সরীসৃপ এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী অন্যতম। বিশেষ করে বিলুপ্তপ্রায় ‘উল্লুক’-এর জন্য এই বনটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এছাড়া এখানে দেখা মেলে মায়া হরিণ, চশমাপরা হনুমান, মেছো বাঘ ও বন মোরগের মতো আকর্ষণীয় সব প্রাণীর।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও আদিবাসী সংস্কৃতি: বনের ভেতরে সেগুন, চাপালিশ, আগর, জারুল ও লোহাকাঠের মতো মূল্যবান গাছের সগর্ব উপস্থিতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বনের শীতল ও নির্মল পরিবেশের মাঝেই রয়েছে আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের পুঞ্জি বা পল্লী।
বনের সাথে মিশে থাকা তাদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি এই উদ্যানের আকর্ষণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। প্রবেশ মূল্য ও যাতায়াত: কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত বর্তমান প্রবেশ মূল্য অনুযায়ী, বাংলাদেশী প্রাপ্তবয়স্ক পর্যটকদের জন্য ফি ১১৫ টাকা এবং ছাত্র-ছাত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫৭.৫০ টাকা। বিদেশী পর্যটকদের জন্য এই ফি ১১৫০ টাকা। এছাড়া যানবাহনের ধরণ অনুযায়ী ২৫ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকের পার্কিং ফি নির্ধারিত রয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এক অনন্য গন্তব্য। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী বনের নির্জনতা আর বন্যপ্রাণীর কলতানে নিজেদের যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এখানে ছুটে আসছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতনতা বজায় রাখলে এই বন বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :