মৌলভীবাজারে চায়ের জনপদে প্রকৃতির মায়াবী হাতছানি


মোঃ আব্দুল কালাম, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মৌলভীবাজারে চায়ের জনপদে প্রকৃতির মায়াবী হাতছানি
সবুজের গালিচা মোড়ানো পাহাড়, কুয়াশার চাদরে ঢাকা চা-বাগান আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এক জনপদ মৌলভীবাজার। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই জেলাটি এখন কেবল ‘চায়ের রাজধানী’ নয়, বরং পর্যটকদের জন্য এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত উঁচু-নিচু টিলায় সারি সারি চা-গাছ যেন প্রকৃতির এক নিপুণ কারুকাজ।
মৌলভীবাজারের পর্যটনের প্রাণকেন্দ্র হলো শ্রীমঙ্গল।
এখানকার গ্র্যান্ড সুলতান কিংবা দুসাই রিসোর্টের মতো বিশ্বমানের আবাসন ব্যবস্থা পর্যটন শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ চা-বাগান হলেও, এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বৈচিত্র্য। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ঘন অরণ্যে হাঁটতে হাঁটতে দেখা মেলে বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক আর বিরল প্রজাতির গাছপালার। বনের নিস্তব্ধতা আর বন্যপ্রাণীর আনাগোনা অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
এশিয়ার বৃহত্তম হাওর ‘হাকালুকি’ এই জেলারই এক বিশাল জলরাশি। শীতকালে যখন হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এই হাওরে ভিড় জমায়, তখন তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আবার মাধবপুর লেকের নীল জলরাশি আর পদ্মফুলের সমারোহ পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি বিলিয়ে দেয়। পিছিয়ে নেই জলপ্রপাতও; বড়লেখার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের পতনের শব্দ আর চারপাশের পাহাড়ী পরিবেশ দর্শনার্থীদের বিমোহিত করে।
মৌলভীবাজারের পর্যটনে যোগ হয়েছে নৃ-তাত্ত্বিক বৈচিত্র্য। খাসিয়া ও মনিপুরী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, তাদের হস্তশিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী ‘সাত রঙের চা’ পর্যটকদের ভ্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাস্তাঘাটের আরও সংস্কার করা গেলে এ জেলাটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন হাবে পরিণত হতে পারে।
প্রকৃতি যেখানে অকাতরে তার রূপ ঢেলে দিয়েছে, সেই চায়ের রাজ্যে একবার ঘুরে আসা মানেই যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ধুয়ে মুছে সজীবতা নিয়ে ফেরা। তাই তো প্রতি বছর দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ভিড় জমান সবুজের এই অরণ্যে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০