ঐতিহ্যের সাক্ষী কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন : এক শতাব্দীর গৌরবময় ইতিহাস
মৌলভীবাজার
প্রকাশের সময় : ১০ মে, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি :মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া জংশন রেলওয়ে স্টেশন কেবল একটি যাতায়াত কেন্দ্র নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার রেল যোগাযোগের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্টেশনটি আজও তার স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে আসামের চা বাগান মালিকদের দাবির মুখে ১৮৯১ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কাজ শুরু করে। ১৮৯৬-১৮৯৮ সালের মধ্যে কুমিল্লা-আখাউড়া-কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটি চালু হয়। মূলত ১৮৯৬ সালে এই স্টেশনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হলেও ১৯১২ সালে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশনে পরিণত হয়।
জংশনে রূপান্তরের ইতিহাস ১৯১২ সালের ১৬ এপ্রিল কুলাউড়া থেকে কুশিয়ারা ঘাট পর্যন্ত ব্রাঞ্চলাইন চালুর মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ জংশনের মর্যাদা পায়। পরবর্তীতে এই লাইনটি সিলেট ও ছাতক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বর্তমানে এটি সিলেট বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন।
ঐতিহাসিক ‘লাতুর ট্রেন’ কুলাউড়া স্টেশনের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘লাতুর ট্রেন’। কুলাউড়া থেকে বড়লেখার শাহবাজপুর (লাতু) হয়ে ভারতের মহীশাসন ও করিমগঞ্জের সাথে ট্রেন যোগাযোগ চলত। ব্রিটিশ আমল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সচল থাকা এই রুটটি ছিল দুই বাংলার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন। বর্তমানে এই রুটটি পুনরায় সংস্কারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।
বর্তমানে কুলাউড়া জংশন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অভিমুখে প্রতিদিন পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী, উপবন, উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের মতো আন্তঃনগর ট্রেনগুলো বিরতি দেয়। যদিও কালের বিবর্তনে অনেক পুরনো স্থাপনা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, তবুও এই জংশনটি তার শতবর্ষী আভিজাত্য নিয়ে আজও সিলেটের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
এই ঐতিহ্যের ধারাকে ধরে রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেশনটির আধুনিকায়নের পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আপনার মতামত লিখুন :