
বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর পার সাঁওতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চীনা যুবকের নাম এম এ হাইশান (৩৯) এবং তরুণীর নাম রিয়া আক্তার (১৬)। তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাইশান ও রিয়ার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে হাইশান বুধবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে রিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে কুমারখালীর বাড়িতে নিয়ে যান। তবে মেয়ের বয়স কম হওয়ায় পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। পরে বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা হয়ে নিজ দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
রিয়া আক্তার বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার বয়স কম হওয়ায় পরিবারসহ অনেকেই বিয়েতে অসম্মতি জানিয়েছেন। তাই আপাতত বিয়ে হচ্ছে না। তিনি জানান, বিয়ের উপযুক্ত বয়স হলে তিনি অপেক্ষা করবেন। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভিন্ন হলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
রিয়ার মা বলেন, মেয়ে বিষয়টি আগে থেকেই তাকে জানিয়েছিল। কিন্তু মেয়ের বয়স কম হওয়ায় তারা এখন বিয়ে দিতে রাজি নন।
মোবাইল অ্যাপের অনুবাদ সুবিধা ব্যবহার করে হাইশান বলেন, বন্ধুত্ব থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি বিয়ে করে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবু তিনি দেড় বছর অপেক্ষা করবেন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তাদের এলাকায় এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। বিদেশি ওই নাগরিককে দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করেন। ভাষাগত সমস্যার কারণে তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করাও কঠিন ছিল।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসন ও স্থানীয়ভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। মেয়ের পরিবারও বয়সের বিষয়টি বিবেচনা করে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে প্রশাসনের সহায়তায় চীনা যুবককে ফিরে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, প্রশাসন পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি, কারণ মেয়েটির আইনগত বিয়ের বয়স হয়নি। পরে ওই চীনা নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :