
আত্মসমর্পণকারী আসামিরা হলেন সারপুকুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের মো. জুয়েল এবং তার ছেলে রকি (১৮)। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তারা আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন বিকেলে জুয়েলের ছোট ছেলে রাব্বির সঙ্গে নিহত লাদেনের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির আপস-মীমাংসা করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, সেদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জুয়েল ও রকি অতর্কিতভাবে লাদেনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রকি ধারালো ছুরি দিয়ে তার পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় লাদেনকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত লিয়াকত আলী লাদেন সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিলেন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় জুয়েল ও রকিকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
আদালতে আত্মসমর্পণের পর বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এতে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আদিতমারী থানা পুলিশ জানায়, আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করায় আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে একই দিন দুপুর ১২টার দিকে লালমনিরহাট আদালত প্রাঙ্গণ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নিহত লাদেনের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন থেকে তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “লাদেন হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
লালমনিরহাটের আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :