
সম্প্রতি এ সীমান্তে অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগও সামনে এসেছে। গত ১৫ জুন ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন দর্শনা থানার কামারপাড়া গ্রামের একটি আমবাগান থেকে একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং ২ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের দাবি, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সামাদ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ, মাদক ও হুন্ডি চক্র নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে অবৈধ কারবার পরিচালনায় তার প্রভাব রয়েছে এবং তাকে কেন্দ্র করেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা একাধিক অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ে সামাদের কণ্ঠে স্বর্ণ পাচার, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ যাতায়াত এবং কিছু চালানের বিষয়ে বক্তব্য শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া একটি ভিডিওতে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অডিও-ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকলেও সামাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ভাষায়, “এত অভিযোগের পরও যদি কেউ আইনের আওতার বাইরে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ থাকার দাবি করা হলেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
তবে অভিযুক্ত সামাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :