খাবারের কথা ভাবলেই আতঙ্ক, জবির ছাত্রী হলে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা


জবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ ৩১
খাবারের কথা ভাবলেই আতঙ্ক, জবির ছাত্রী হলে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে খাবার ও রান্নার গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় তাঁরা নিজেরা রান্না করতে পারছেন না। এর মধ্যে হলের একমাত্র ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। ফলে কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন, আবার কেউ না খেয়েও থাকছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

হল সূত্রে জানা যায়, ১৬ তলা ভবনের পঞ্চম তলা থেকে আবাসিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সেখানে রয়েছে তীব্র আবাসনসংকট। চারজনের থাকার উপযোগী কক্ষগুলোতে বর্তমানে প্রায় আটজন করে ছাত্রী থাকছেন। প্রতি তলায় গড়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র চারটি গ্যাসের চুলা ও সাতটি বাথরুম।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময় হলে গ্যাস থাকে না। কখনো রাত দুইটা বা তিনটার দিকে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও সারাদিন ক্লাস, পরীক্ষা ও টিউশন শেষে তখন রান্না করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া হলে বৈদ্যুতিক কুকার ব্যবহারেরও অনুমতি নেই। ফলে চারটি চুলার ওপর ৮৮ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে রান্নার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে রান্নার সুযোগ পান না। এমনকি বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবারও গ্যাসের অভাবে গরম করে খেতে পারছেন না তাঁরা।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সুইটি বলেন, হলে তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাসের কারণে নিজেদের রান্নার সুযোগ নেই। রাত দুইটা বা তিনটার দিকে গ্যাস এলেও তখন রান্না করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে ক্যান্টিনের খাবারের মানও ভালো নয়। ক্লাস ও পরীক্ষার ব্যস্ততার মধ্যে ঠিকমতো খেতে না পেরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

গ্যাস সংকটের কারণে ক্যান্টিনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও খাবারের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, খাবারে প্রায়ই মাছি ও পোকামাকড় পাওয়া যায়। শাকসবজি ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। অনেক সময় মাছ-মাংস ও ভাত আধাসিদ্ধ থাকে এবং খাবার থেকে দুর্গন্ধও বের হয়।

অর্থনীতি বিভাগের ১৬তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যান্টিনের খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। খাবারের পরিমাণও কম দেওয়া হয়। গ্যাসের সমস্যার কারণে তাঁরা নিজেরা রান্না করতে না পারায় বাধ্য হয়ে ক্যান্টিনের ওপর নির্ভর করছেন।

১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সনিয়া বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে রান্না করা সম্ভব হয় না। আবার বৈদ্যুতিক কুকারও ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নত করার কথা বলা হলেও কয়েক দিন ভালো থাকার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। খাবারে পোকামাকড় পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঠিকমতো খেতে না পারায় শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে সমস্যায় পড়ছেন।

দীর্ঘ তিন বছর ধরে হলে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যান্টিনের খাবারের মান এতটাই খারাপ হয়েছে যে খাবারের কথা ভাবলেই আতঙ্ক লাগে। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এতে তাঁদের বাড়তি অর্থ খরচ হচ্ছে। ক্যান্টিনে অল্প পরিমাণ খাবার রান্না হওয়ায় অনেক সময় দ্রুত খাবার শেষ হয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের না খেয়ে থাকতে হয়।

খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের বিষয়ে হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) জান্নাতুল উম্মি তারিন বলেন, ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নে হল সংসদ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্যান্টিন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত কাঁচাবাজার ও ক্যান্টিন মনিটরিং করা হলেও গত এক মাসে খাবারের মান আরও খারাপ হয়েছে।

তিনি বলেন, এ কারণে হল সংসদের উদ্যোগে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে প্রায় সব ছাত্রী খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বর্তমান ক্যাটারার পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন। পরে ক্যান্টিন কমিটি ও হল সংসদের জরুরি সভায় ক্যাটারার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারের মান উন্নয়নের জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, ক্যান্টিনের ক্যাটারারকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে খাবারের মানসহ সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় উন্নতি না হলে টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ক্যাটারার নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, হল সংসদ গণস্বাক্ষর জমা দিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বর্তমান ক্যাটারারকে বাদ দেওয়ার চেয়ে খাবারের মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না, তা দেখা হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, আবাসনসংকটের পাশাপাশি রান্নার গ্যাস ও খাবারের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না হলে তাঁদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন আরও ব্যাহত হবে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১