
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি কারিগরি কমিটি প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার আশা রয়েছে।
তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরিতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সিইজিআইএস, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সবার মতামত সমন্বয় করে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটি এমনভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় মানুষ সর্বোচ্চ সুফল পান। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি তৈরিতে আরও আট থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৯ নভেম্বর উদ্বোধন হতে পারে মহেন্দ্রনগর খাল
এদিকে মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খালটির উদ্বোধন করবেন। খালটি চালু হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি সেচসুবিধা পাবেন। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এতে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘নতুন লালমনিরহাট’ গড়ার উদ্যোগও এগিয়ে যাবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আপনার মতামত লিখুন :