
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া ওই পোস্টে রনি জানান, প্রথমে ওই নারী তাঁর অফিসে গেলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পরে একই নারী ধানমন্ডির বাসায় গেলে তিনি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন বলেও দাবি করেন।
রনির ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ওই নারীর কাছে বিয়ের প্রমাণপত্র দেখতে চাইলে তিনি কাগজ থাকার কথা জানান, তবে তখন তা দেখাননি। পরে ধানমন্ডির বাসায় যাওয়ার ঘটনার পর পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ওই নারীর আত্মীয় পরিচয়ে দুজন ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে কথিত কাবিননামার একটি কপি সংগ্রহ করে বলে দাবি করেন রনি।
তালাক ও অর্থ পরিশোধের দাবি
ফেসবুক পোস্টে রনি জানান, কথিত কাবিননামা পাওয়ার পর তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। তাঁদের পরামর্শে দীর্ঘ আইনি বিরোধ এড়াতে কাবিনে উল্লেখিত দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ এবং তালাকের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন তিনি।
রনি আরও দাবি করেন, পুরো ঘটনা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন এবং আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ পাঠান। তাঁর বক্তব্য, তালাক কার্যকর ও নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিষয়টি নিয়ে আর আগের মতো সক্রিয় থাকেনি।
তবে এসব দাবির পক্ষে তালাকের নোটিশ, নিবন্ধনের কাগজ, অর্থ পরিশোধের রসিদ কিংবা থানায় করা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিও প্রকাশ নিয়ে অভিযোগ
নিজের পোস্টে রনি অভিযোগ করেন, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ওই নারী এবং ইউটিউবার ইলিয়াস একটি ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। বনি আমিন নামের আরেক ইউটিউবারকেও এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন রনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা শুরু থেকেই জানতেন।
এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
পোস্টের শেষাংশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তাঁর বক্তব্য, এত দিন পর ফারজানা আফরোজকে ঘিরে এনসিপির নেতাদের আগ্রহ এবং তাঁকে সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনার বিষয়টি তাঁর বোধগম্য নয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফারজানা আফরোজের এনসিপির নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’তে যোগ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে গোলাম মাওলা রনির স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলে রনি ফেসবুকে তা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ফারজানা তাঁর স্ত্রী নন।
এরপর ফারজানা আফরোজ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে রনির সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা প্রকাশ করেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ফলে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক, কথিত তালাক এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফারজানা আফরোজ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁকে এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :