
এ সময় ছয়টি সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
নিহত নন্দিনী রানী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের কৃষক নলিনী চন্দ্র বর্মণের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় নন্দিনী। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা একটি ভুট্টাখেতে সন্দেহজনক গর্ত দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সেখানে বস্তাবন্দী ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ এ ঘটনায় ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দা বিধান চন্দ্র বর্মণকে (২২) আটক করেছে।
শিশুটির পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। ভাঙচুর করা হয় ছয়টি সরকারি যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিশুর বাবা অভিযোগ করেন, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার রাতেই থানায় জানানো হলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। এ অভিযোগের পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
লালমনিরহাটের আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :