অনলাইন জু.য়া.র প্রতিবাদ করায় কলেজ শিক্ষককে কু.পি.য়ে জখম, ৮ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি


মো. আব্দুর রাজ্জাক, লালমনিরহাট প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ ৩২
অনলাইন জু.য়া.র প্রতিবাদ করায় কলেজ শিক্ষককে কু.পি.য়ে জখম, ৮ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি

অনলাইন জুয়ার ও ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় লালমনিরহাটের আদিতমারীতে আরিফুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গত আট দিন ধরে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

আহত আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। তিনি আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গন্ধমরুয়া এলাকায় রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে এলাকার অনেক মানুষ জুয়ায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক আরিফুল ইসলাম এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। তিনি অভিযুক্তদের অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কার্যক্রম বন্ধ না হলে পুলিশকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন।

এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে গন্ধমরুয়া এলাকায় আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাকে লোহার রড দিয়ে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেখানে আট দিন ধরে তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ঘটনার পরদিন আহত শিক্ষকের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ছয়জন কথিত অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনা ব্যবসায়ীসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় মামলা করেন।

আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমার ছেলের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। হামলায় তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। আট দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকেরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের সাত দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১