
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের আওতায় মনাকষা ও এলাহীনগর গ্রামের মাঝ দিয়ে একটি খাল খনন করা হয়। এরপর থেকেই দুটি গ্রামের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন থেকেই মনাকষা বাজারসংলগ্ন স্থানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সেতু না থাকায় মনাকষা, এলাহীনগর, হাড়গাড়ী, সুকচা ও বাজিতপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের কয়েক শ গজের পথ পাড়ি দিতে দুই থেকে তিন মাইল ঘুরে যেতে হয়। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাত করা, রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। বর্ষা মৌসুমে নৌকারও সংকট দেখা দেয়। ফলে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়াও অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, সাইকেল কাঁধে নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হয়। একটি সেতু নির্মাণ হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। যে পথ হেঁটে পাঁচ মিনিটে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব, সেতু না থাকায় সেই পথ ঘুরে যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টারও বেশি। বিকল্প পথটি নির্জন মাঠের মধ্য দিয়ে হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ কারণে অনেক অভিভাবক মেয়েদের একা বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পান না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে সন্তানদের পড়াশোনাও বন্ধ করে দিয়েছেন।
এলাহীনগর গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম বলেন, তিনি প্রতিদিন দুই নাতনিকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে যান। নির্জন পথে একা চলাচল নিরাপদ না হওয়ায় বয়সের ভার নিয়েও তাদের সঙ্গে যেতে হয়।
পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজা খাতুন ও অফিয়া আনজুম সুমি জানায়, প্রায় চার কিলোমিটার পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। তাই ঝুঁকি থাকলেও সময় বাঁচাতে অনেক সময় বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হয় তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। নির্জন পথে বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগও রয়েছে। গ্রামবাসীর উদ্যোগে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি সাময়িক সমাধান হলেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশাদুল হক মিকা বলেন, বর্তমানে বাঁশের সাঁকোই মানুষের একমাত্র ভরসা। একটি সেতু নির্মিত হলে কৃষকরা সহজে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারবেন, শিক্ষার্থীরাও নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে। এতে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের বরাদ্দ দিয়ে নতুন বড় সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে বড় প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :