মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে মারামারির ছবি তোলায় ২ সাংবাদিককে মারধর


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ২:৩০ অপরাহ্ণ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে মারামারির ছবি তোলায় ২ সাংবাদিককে মারধর

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মারামারির ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় প্রশাসন ও পুলিশের সামনেই দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়া ওই দুই সাংবাদিকের মধ্যে একজনের একটি মুঠোফোন ভেঙে ফেলা হয়, অন্যজনেরটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক ইনকিলাব- এর সিরাজদিখান প্রতিনিধি ইসমাইল খন্দকার ও দৈনিক লাখোকণ্ঠ-এর সিরাজদিখান প্রতিনিধি আরিফ হোসেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র মঙ্গলবার রাত দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম ওরফে লিটু, যুবলীগের কর্মী শেখ সেলিম ও তাঁদের লোকজন জুতা পায়ে ফুল দিতে শহীদ মিনারে ওঠেন। এ সময় ফুল দেওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ ঘটনা সাংবাদিক ইসমাইল খন্দকার ও আরিফ হোসেন ভিডিও করছিলেন এবং ছবি তুলছিলেন। জহিরুল ও সেলিমের নেতৃত্বে ২০- ২৫ জন ওই দুই সাংবাদিকে বেদম পেটান। সেখানে অবস্থা ঠিক না থাকায় সে সময় উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেনি। ঘটনার কিছুক্ষণ পর তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
সাংবাদিক আরিফ হোসেন বলেন, ‘শহীদ মিনারে মদ্যপ অবস্থায়, জুতা নিয়ে ফুল দিতে যান শেখ সেলিম ও জহিরুলের লোকজন। আমাকে হুমকি-ধমকি দেন। আমি ভয়ে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে চেয়েছিলাম। তাঁরা স্কুলের মাঠে আমাকে আটকান। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জন
চতুর্দিক থেকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। অন্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় বেঁচে ফিরি। সে সময় পাশেই দেখি, আমাদের আরেক সহকর্মী ইসমাইল খন্দকারকেও একইভাবে পেটান তাঁদের আরও একটি দল। নাক দিয়ে রক্ত ঝরেছে। শরীরের ব্যথায় বিছানা থেকে উঠতে পারছি না।

সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মুক্তার হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হলো। থানার ওসি, ইউএনও সবার সামনে সাংবাদিকদের পেটানো হলো। অথচ কেউ কোনো পদক্ষেপ নিল না। এমন ঘটনায় আমরা লজ্জিত, শঙ্কিত। আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। থানায় অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছি আমরা।’
তবে শহীদ মিনারে নিজেদের মধ্যে মারামারি, সাংবাদিকদের মারধর ও মাদক সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সিরাজদিখান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ফুল দেওয়া শেষে সেলিমের দুটি ছেলের মধ্যে মোটরসাইকেল বের করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। সেটির ভিডিও দু-একজন করছিলেন। তাঁরা সাংবাদিক কি না, তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বুঝতে পারেনি। সে সময় সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়নি। এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই।’

উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ময়নুল হাসান বলেন, ‘আমরা ফুল দিয়ে আসার পরে শহীদ মিনারে মারামারি, সাংবাদিকদের হেনস্তা করার একটি ঘটনা শুনেছি। সেখানে যারা মারামারি করেছে, তারা কেউ যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। যদি যুবলীগের কেউ জড়িত থাকে, দল গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ওসি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনা দেখে দুই পক্ষকে যার যার মতো নিরাপদে সরিয়ে দিয়েছি।’ সাংবাদিকদের পেটানোর ঘটনায় আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখছি, কী করা যায়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০