আগামীকাল কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্বোধন, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের আশায় স্থানীয়রা


রাঙামাটি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ ৩২
আগামীকাল কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্বোধন, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের আশায় স্থানীয়রা

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আশায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে সাজসজ্জা, ইন্টারনেট সংযোগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর কবির, আব্দুল মতিন, সুইহ্লা প্রু মারমা, অংচেপ্রু মারমা ও কাকলি দাশ বলেন, “আমরা খুবই আনন্দিত। দেশের মাত্র তিনটি গ্রামের মধ্যে আমাদের গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচিত করায় আমরা গর্বিত। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি।”

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, “এটি কাপ্তাইবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে মিতিঙ্গাছড়িকে পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি এলাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মামুন বলেন, দেশের তিনটি গ্রামের মধ্যে কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়িকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে নির্বাচিত করা গর্বের বিষয়। তারা এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১৭টি লক্ষ্যের আলোকে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ, কৃষি ও জীবিকার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ অন্যতম।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১