ঈদকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার কামারপল্লীতে ব্যস্ততা, কারিগরদের মুখে সাময়িক হাসি


শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশের সময় : ২০ মে, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
ঈদকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার কামারপল্লীতে ব্যস্ততা, কারিগরদের মুখে সাময়িক হাসি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন কামারপল্লীতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটির চাহিদা বাড়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কামাররা। আগুনের উত্তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। দীর্ঘ সময় পর বাড়তি কাজের সুযোগ পেয়ে কারিগরদের মুখে ফুটেছে সাময়িক হাসি।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কামারশালাগুলোতে পুরোনো দা-ছুরি শান দেওয়া এবং নতুন সরঞ্জাম তৈরির ধুম পড়েছে। চুল্লির আগুন আর হাতুড়ির শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারপল্লী। অনেকেই ঈদের আগেই ব্যবহৃত সরঞ্জাম ধার করাতে নিয়ে আসছেন।

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কামার পরিবারগুলো এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদকে ঘিরেই তাদের সবচেয়ে বেশি কাজ ও আয় হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে দা, ছুরি, চাপাতি ও বঁটি। আকার ও ওজনভেদে এসব পণ্যের দামও ভিন্ন। ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়, দা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় এবং বঁটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরির দাম রাখা হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অনেক কারিগর ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ নকশার সরঞ্জামও তৈরি করছেন।

কার্পাসডাঙ্গা বাজারের কামার কারিগর জিয়ারুল রহমান বলেন, লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। বিক্রি বাড়লেও লাভ খুব বেশি থাকছে না। ঈদকে সামনে রেখে কাজের চাপ এত বেশি যে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেও সব অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আরেক কারিগর আলামিন হোসেন বলেন, আগুনের পাশে দীর্ঘ সময় কাজ করায় নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগতে হয়। পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম হওয়ায় অনেকেই পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কামার সম্প্রদায়ের মানুষ কমে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কারিগর সুমন আলী বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরাও এই পেশায় ছিলেন। আমরাও করছি। কিন্তু এখনকার তরুণদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ, কষ্ট বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম।”

কারিগররা জানান, লোহার পাত, কয়লা, কাঠের হাতলসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে লাভের পরিমাণ কমে গেছে।

দামুড়হুদার ডুগডুগি বাজারে নতুন দা ও ছুরি কিনতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, “ঈদের আর বেশি সময় নেই। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসেছি। তবে আগের তুলনায় দাম অনেক বেড়েছে।”

অপর ক্রেতা রাজু বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দা, চাপাতি ও ছুরির দাম বাড়ানো হয়েছে। ছুরি শান দিতেও ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

কারিগরদের দাবি, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আরও উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন সম্ভব হতো। তাঁদের মতে, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি।

চুয়াডাঙ্গার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০