হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ


নোয়াখালী প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ ৩৮
হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে নোয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ রাশেদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল কালামের বিরুদ্ধে টোকেন বাণিজ্য, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান না কিনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ, প্রতি মণে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৫ কেজি ধান নেওয়া, শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির টাকা আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ধান ক্রয়ের বিল উত্তোলনের মতো অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আবুল কালাম একই কর্মস্থলে এক যুগের বেশি সময় ধরে কর্মরত থাকায় গুদামের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অনিয়ম চালিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন হাতিয়ায় অবস্থান করার কারণে আবুল কালাম স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, হ্যান্ডলিং ঠিকাদার এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের এক হিসাবরক্ষকের সঙ্গে সখ্য গড়ে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে গুদামের শ্রমিক ও অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে অনিয়ম চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি হ্যান্ডলিং ঠিকাদারের দায়িত্ব পালন করায় খাদ্য গুদামের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় আবুল কালামকে অন্যত্র বদলি এবং হ্যান্ডলিং ঠিকাদার পরিবর্তন করে টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের সঙ্গে আবুল কালামের বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে। একপর্যায়ে তিনি স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি গুদামের চতুর্থ শ্রেণির বেতনভুক্ত একজন দারোয়ান। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আমি জড়িত নই। ধান, গম ও চাল কেনাবেচায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে এর সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারেন। সব ধরনের বিল তাঁদের মাধ্যমেই অনুমোদন হয়।”

তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম বলেন, “সকল অপকর্মের সঙ্গে আমি জড়িত আছি। আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেন। আমি এ উপজেলা থেকে চলে যেতে চাই।”

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১