সৌদি আরবে আগুনে নি.হ.ত নওগাঁর ৭ জনের জানাজা একসঙ্গে


খোরশেদ আলম, নওগাঁ প্রকাশের সময় : ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ ৬২
সৌদি আরবে আগুনে নি.হ.ত নওগাঁর ৭ জনের জানাজা একসঙ্গে

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনার পর একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে নয়জন শনাক্ত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনের সমন্বয়ে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে আত্রাইয়ে পৌঁছে।

মরদেহ আত্রাইয়ে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখতে রাত থেকেই অনেকে সেখানে ভিড় করেন।

জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে কোনো খরচ ছাড়াই অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে আনা হয়েছে।

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাকি শনাক্ত মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সৌদি দূতাবাস থেকে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী, নিহত সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করে। শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন রয়েছেন।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার আরও কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১