
দলীয় সূত্রের দাবি, ছাত্ররাজনীতির (Student Politics) শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন রুমি। এ সময় বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তিনি হামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ছয়বার গ্রেপ্তার এবং মোট ২১৭ দিন কারাভোগ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রুমি জানান, ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগরের সূত্রাপুর থানায় প্রথমবার গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ ইকুরিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে রমনা থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে দাবি করেন তিনি। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন দলীয় কর্মসূচি পালনকালে নিজ ক্যাম্পাসের সামনে থেকেও তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া ২০২১ সালের ৫ মে জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাঁকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে গ্রেপ্তার করে বলে রুমি দাবি করেন। একই বছরের ২৩ আগস্ট ডিবি পুলিশের হেফাজতে একদিন এবং শেরেবাংলা নগর থানায় দুইদিন রিমান্ড শেষে তিনটি মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ৫০ দিন কারাভোগ করেন বলেও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রুমি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছেন তিনি। ২০১৪-১৫ সালের আন্দোলন, ২০১৮ সালের নির্বাচন এবং ২০২৩-২৪ সালের বিভিন্ন আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানান।
সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে রুমি বলেন, জিরো পয়েন্টে অবরোধ, শাহবাগমুখী মিছিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, তাঁতিবাজার, লক্ষ্মীবাজার ও শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেন।
রুমি বলেন, “২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নয়ন বাছার নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। সেদিন আমি ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরে আসি।” খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার দিনগুলোতেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন। ধোলাইখাল এলাকায় পিকেটিংয়ের সময় তাঁর হাতে আঘাত লেগে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
রুমি আরও বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, ছাত্রনেতার প্রধান দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করা। আবাসন, বৃত্তি, শিক্ষা ও ন্যায্য সুযোগসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রুমি বলেন, “ক্যাম্পাস শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। আমি এমন একটি ক্যাম্পাস চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।”
এদিকে ক্যাম্পাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীর দাবি, রুমি শিক্ষার্থীবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তাঁদের মতে, তাঁর মতো সংগঠকদের দায়িত্ব দেওয়া হলে জবি ছাত্রদল আরও সুসংগঠিত হতে পারে।
তবে নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :