
নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূল বেতন ও নিট পেনশন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির কাজ করছে অর্থ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনটি ভেটিংয়ের জন্য শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
নতুন কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো—
বাড়িভাড়া ভাতা: ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় গ্রেডভেদে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা: বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হবে। ৫০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছরের বেশি থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে মাসে ৬ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি: গ্রেড-৬ ও নিচের গ্রেডে ৫ শতাংশ, গ্রেড-৩ ও ৪-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোবাইল ভাতা: সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। গ্রেড-৫ ও তার ঊর্ধ্বে ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-৬ ও নিচের গ্রেডে ১৫০ টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।
যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা: যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা নতুন ভাতা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ সুবিধা পাবে।
বাংলা নববর্ষের ভাতা: বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা: প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা মূল বেতনের ১০ শতাংশ করার পাশাপাশি ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা ক্ষেত্রবিশেষে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। শিক্ষা সহায়ক, কার্যভার, আপ্যায়ন ও উৎসব ভাতা আগের হারেই বহাল থাকবে।
পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার ভাতা: পাহাড়ি এলাকায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার এবং অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় ৫ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত এ ভাতা দেওয়া হবে। হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় ২০ শতাংশ ভাতা বহাল থাকবে, তবে সর্বোচ্চ সীমা হবে ৫ হাজার টাকা।
পেনশন ও গ্র্যাচুইটি: ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নিট পেনশনের নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ভাতা: প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের পাশাপাশি পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আসবে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :