
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা পেরিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বিতর্কের মৌলিক বিষয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মানের বিতর্কের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী কর্মশালায় দেশের স্বনামধন্য বিতার্কিকরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন। এশিয়ান পার্লামেন্টারি ডিবেটের সেশন পরিচালনা করেন মাইন আল মুবাশ্বির। ইংরেজি বিতর্কের সেশন পরিচালনা করেন বুয়েট ডিবেটিং ক্লাবের ফয়সাল রায়হান।
এ ছাড়া ‘কেন বিতর্ক করব না’ শীর্ষক সেশনে আবু বকর সিদ্দিক, প্রস্তুতি সময়ের কৌশল ও প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ বিষয়ে আসিফ আদনান অমি, যুক্তি উপস্থাপনা বিষয়ে মাহিদুল ইসলাম এবং বিতর্কের মৌলিক নীতি বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম প্রশিক্ষণ দেন।
প্রশিক্ষণ সেশনগুলোতে বিতর্কের কারিগরি বিষয়গুলো সহজ ও যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, কর্মশালাটি শুধু বিতর্কের কৌশল শেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জটিল সমস্যা সমাধান, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের দক্ষতা অর্জনেও সহায়ক হয়েছে।
দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত অতিথি সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর এবং ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। এ সময় সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস বার্তা পাঠিয়ে কর্মশালার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
আয়োজন সফল হলেও এর নেপথ্যে থাকা সাংগঠনিক ও কাঠামোগত সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন ইভেন্ট সমন্বয় উপ-কমিটির সদস্য রাকিব শিকদার। তিনি বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে একটি অস্থায়ী উপ-কমিটির মাধ্যমে এত বড় আয়োজন করা কঠিন ছিল। সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, জেএনইউডিএসের পক্ষ থেকে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো সাম্প্রতিক সাফল্য ধরে রাখতে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিশেষে মুনিব মুসান্নাসহ আয়োজক পর্ষদের সমন্বয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্ট ‘ডায়ালেক্টিকা ২.০’-এর ফাইনাল ম্যাচটি প্রদর্শনী বিতর্ক হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচ উপভোগ এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী কর্মশালাটি।
আপনার মতামত লিখুন :