বিদেশে উচ্চশিক্ষা: কোন দেশে যেতে কোন পরীক্ষা লাগতে পারে


শিক্ষা ডেস্ক প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ ৫৭
বিদেশে উচ্চশিক্ষা: কোন দেশে যেতে কোন পরীক্ষা লাগতে পারে

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান, পছন্দের বিষয়, খরচ এবং বৃত্তির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায় না। প্রয়োজন হয় ইংরেজি বা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল।

ইউনেস্কোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছেন।

ইংরেজি ভাষার দক্ষতার পরীক্ষা

ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত বেশিরভাগ কোর্সে ভর্তি হতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত দুটি পরীক্ষা হলো আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি পরীক্ষার পরীক্ষা।

আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় পড়া, লেখা, শোনা ও বলার দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল ১ থেকে ৯-এর স্কেলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে পড়তে সাধারণত একাডেমিক ধরনের পরীক্ষা প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি পরীক্ষাও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের আবেদনে এই পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণ করা হয়।

তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য এবং ন্যূনতম কত নম্বর প্রয়োজন, তা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখে নেওয়া জরুরি।

স্নাতকোত্তরে জিআরই

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে আবেদন করতে অনেক সময় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সাধারণ ভর্তি পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই পরীক্ষার ফলাফল চেয়ে থাকে।

এই পরীক্ষায় ভাষাগত যুক্তি, গাণিতিক যুক্তি এবং বিশ্লেষণী লেখার দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।

তবে বর্তমানে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব বিষয়ে এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কোর্সের ভর্তি নীতিমালা যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্যবসায় পড়তে জিম্যাট

ব্যবসায় শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা বা এমবিএ ধরনের প্রোগ্রামে ভর্তি হতে অনেক ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক ব্যবস্থাপনা ভর্তি পরীক্ষা বা জিম্যাটের ফলাফল চাওয়া হয়।

এই পরীক্ষায় মূলত একজন শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণী, গাণিতিক ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তার দক্ষতা যাচাই করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এই ফলাফল গ্রহণ করা হয়।

তবে কোন প্রতিষ্ঠানে জিম্যাট প্রয়োজন এবং কী ফলাফল গ্রহণযোগ্য, তা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে।

স্নাতকে ভর্তিতে স্যাট

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য শিক্ষাগত দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা বা স্যাটের ফলাফল প্রয়োজন হতে পারে।

এই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর গণিত ও পাঠসংক্রান্ত বিভিন্ন দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।

তবে বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্যাটকে ঐচ্ছিক করেছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি নীতিমালা দেখে নেওয়া উচিত।

জার্মানিতে ভাষার পরীক্ষা

জার্মানিতে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সে ভর্তি হতে ইংরেজি ভাষার দক্ষতার পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু জার্মান ভাষায় পরিচালিত কোর্সের জন্য জার্মান ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়।

এ ক্ষেত্রে জার্মান ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা এবং জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ভাষা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকেই অনুমোদিত কেন্দ্রে জার্মান ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা দেওয়া যায়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ভাষা পরীক্ষা সাধারণত জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়।

তবে জার্মানির প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা এক নয়। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট কোর্সের ভাষাগত যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

জাপানে জাপানি ভাষার পরীক্ষা

জাপানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতার পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণ করা হয়। তবে জাপানি ভাষায় পরিচালিত কিছু কোর্সে জাপানি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষাটির মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।

এই পরীক্ষা সাধারণত বছরে দুইবার অনুষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ থেকেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কোন পরীক্ষাটি আপনার জন্য?

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে—কোন দেশে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন বিষয়ে পড়তে চান। এরপর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত দেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্বাচন করা উচিত।

সাধারণভাবে—

আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা: ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণে
বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি পরীক্ষা: ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণে
শিক্ষাগত দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা: স্নাতক পর্যায়ে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে
স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সাধারণ ভর্তি পরীক্ষা: কিছু স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে
স্নাতক ব্যবস্থাপনা ভর্তি পরীক্ষা: এমবিএ ও কিছু ব্যবসায়িক প্রোগ্রামে
জার্মান ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা: জার্মান ভাষার কোর্সে
জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা: জাপানি ভাষায় পরিচালিত কিছু কোর্সে

ভালো ফলাফল শুধু ভর্তি নয়, কিছু ক্ষেত্রে বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে। তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের শর্ত আলাদা। তাই অন্যের প্রস্তুতি অনুসরণ না করে নিজের কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। সূত্র: বিবিসি নিউজ

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: কোন দেশে যেতে কোন পরীক্ষা লাগতে পারে

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০