
পড়া মনে রাখার প্রথম কৌশল হলো পড়াকে নিজের জীবনের সঙ্গে মেলানো। তুমি যদি শুরুতেই ভাবো, এই পড়া আমার কাজে লাগবে না, তাহলে মস্তিষ্কও সেটাকে গুরুত্ব দেবে না। কিন্তু ইতিহাস পড়তে গিয়ে যদি ভাবো, আজকের সমাজের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক বা সাহিত্য পড়তে গিয়ে যদি চরিত্রগুলোর অনুভূতি নিজের জীবনের সঙ্গে মেলাও, তাহলে পড়া হঠাৎ করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যখন পড়া নিজের জীবনের অংশ হয়ে যায়, তখন সেটা আর সহজে ভোলা যায় না।
পড়া মনে রাখার দ্বিতীয় কৌশল হলো শুধু একভাবে না পড়ে নানা উপায়ে শেখার চেষ্টা করা। শুধু বই পড়লেই হবে না। অডিও শোনো, মুখে বলো, লেখো আর আলোচনা করো। কারণ, মস্তিষ্কে যত বেশি পথ তৈরি হবে, তথ্য তত সহজে মনে থাকবে। তুমি বন্ধুকে বুঝিয়ে বলতে পারো, নিজের ভাষায় লিখে ফেলতে পারো কিংবা ছবি বা চার্ট এঁকে নিতে পারো। এতে করে শেখা আরও গভীর হয়।
তৃতীয় কৌশল হলো, নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে ওঠা। ক্লাসে যা শেখানো হয়, শুধু তার ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, আমি কী বুঝলাম, কোথায় সমস্যা হচ্ছে? এসব প্রশ্নই তোমাকে আরও ভালোভাবে শেখাবে। হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা।
চতুর্থ কৌশল হলো বারবার পড়া। কিন্তু এক দিনে অনেকক্ষণ ধরে পড়ার চেয়ে কয়েক দিন ধরে অল্প অল্প করে পড়া অনেক বেশি কার্যকর। একে বলা হয় স্পেসড লার্নিং। এতে করে মস্তিষ্ক তথ্যগুলোকে গুছিয়ে রাখার সময় পায়। ফলে সেগুলো দীর্ঘদিন মনে থাকে।
পঞ্চম কৌশল হলো নিজের অভ্যাস বদলানো। ভালোভাবে শেখা শুধু পড়ার টেবিলে বসে হয় না। এটি পুরো জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। তুমি ঠিকমতো ঘুমাচ্ছ কি না, ঠিকমতো খাচ্ছ কি না আর মনোযোগ দিয়ে পড়ছ কি না, এসব বিষয়ও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শেখা আসলে একটি দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস।
তাই শেখা মানে শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়। শেখা মানে বুঝতে পারা, মনে রাখা এবং জীবনে কাজে লাগানো।
আপনার মতামত লিখুন :