
লাখোকন্ঠ হেলথ্ ডেস্ক: শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি শরীরের ভিতরেই তৈরি হয়। এই ভিটামিন শরীরে ক্যালশিয়াম এবং ফসফরাস শোষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তা ছাড়াও এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশকেও সহজ করে তোলে ভিটামিন ডি।
ভিটামিন ডি হাড় মজবুত করতে, ত্বকের ব্যাধিতে, এমনকি ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধে উপকারী। এটি শরীরের পেশিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
সূর্যের আলো থেকেও শরীর ভিটামিন ডি পায়। তবে বর্ষাকালে মেঘলা দিনে বা শীতের সময় রোদ না উঠলে শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হতে পারে। অনেকে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণে সাপ্লিমেন্ট নিয়ে থাকেন।
তবে কেবল সূর্যরশ্মি থেকেই নয়, কিছু খাবারেও রয়েছে ভিটামিন ডি। এসব খাবার নিয়মিত খাদ্যাভাসে রাখলে সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। জেনে নিন রোজ কী কী খাবেন।
তৈলাক্ত মাছ
গবেষকরা বলছেন, চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা আর্থারাইটিস, হৃদরোগ ও ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।এছাড়া চর্বিযুক্ত মাছ খেলে এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও অনেক গুণ কমে যায়। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড রিউমাটয়েড আর্থারাইটিসের আশঙ্কা কমিয়ে দেয় অনেকখানি।
এছাড়া চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত মাছ বিভিন্ন কার্ডিওভ্যাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করতে পারে বলেও দাবি গবেষকদের। তারা বলছেন, চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত মাছ মানসিক চাপ কমিয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধেও তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত মাছ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়। এতে বলা হয়েছে, যেসব নারী নিয়মিত চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত মাছ খান, তাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়।
মাশরুম
মাশরুম খাওয়ার চল বাঙালিদের মধ্যে খুবই কম। তবে জানলে অবাক হয়ে যাবেন, এই অবহেলিত খাবারই কিন্তু শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে ভিটামিন ডি-এর ভাণ্ডার। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত মাশরুম খেলে শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি মিটে যায়। এছাড়া মাশরুমে মজুত রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন। তাই শরীর সুস্থ রাখতে চাইলে এখন থেকেই মাশরুম খাওয়া শুরু করে দিন।
ডিমের কুসুম
কম দামে ডিমের থেকে উপকারী আর একটি খাবারও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ এবং প্রোটিনের ভাণ্ডার। এমনকি ডিমের কুসুম হল ভিটামিন ডি-এর খনি। তাই নিয়মিত ডিমের কুসুম খেলে এই ভিটামিনের ঘাটতি মিটবে নিমেষে। তবে মনে রাখবেন, দিনে একটির বেশি কুসুম খাওয়া কিন্তু উচিত নয়। এছাড়া যারা ইতিমধ্যেই কোলেস্টেরল এবং হার্টের অসুখে ভুগছেন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডিমের কুসুম খাবেন না। এই নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকতে পারবেন।
কড লিভার অয়েল
কড লিভার অয়েল একটি সম্পূরক পুষ্টি উপাদান যা কড মাছের যকৃত থেকে আহরণ করা হয়। অধিকাংশ মাছের তেলের ন্যায় কড লিভার অয়েলেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড:আইকোসেপেন্টিনোয়িক এসিড (EPA) এবং ডোকোসেহেক্সানোয়িক এসিড (DHA) রয়েছে। কড লিভার অয়েলে বিদ্যমান প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি-এর জন্যে মানুষ দীর্ঘকালধরে এটি গ্রহণ করছে। সাধারণত শিশুদের ভিটাভিন ডি-এর অভাব প্রতিরোধে ক্যাপসুল বা সিরাপ আকারে কড লিভার অয়েল খাওয়ানো হয়।
কমলা
কমলায় শুধু ভিটামিন সি-ই থাকে না, এই ফলে থাকে ভিটামিন ডি-ও। কমলা খেলে তা শরীরে আয়রনের শোষণ বাড়াতে কাজ করে। সেইসঙ্গে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতেও দারুণ কার্যকরী। তাই নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখুন সুস্বাদু এই ফল।
আপনার মতামত লিখুন :