তিন শ বছরের ‘যন্তর মন্তর’ যেভাবে দিল্লির প্রতিবাদের স্থান হয়ে উঠল


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ ৯৫
তিন শ বছরের ‘যন্তর মন্তর’ যেভাবে দিল্লির প্রতিবাদের স্থান হয়ে উঠল

১৭২৪ সালে স্থাপিত হয় যন্তর মন্তর। তিনশো বছরের জন্মদিন আগেই পেরিয়ে এসেছে এই স্থান। তবু এদেশে যন্তর মন্তর নামটি আজও উচ্চারিত হয় প্রায় নিয়মিত। কেননা দিল্লিতে কোনও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলে তা প্রদর্শনের স্থান হিসেবে জায়গাটিকে বেছে নেওয়া হয়। এ মুহূর্তে ককরোচদের আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি। কেন্দ্রস্থল এ স্থানই।

কিন্তু কেন দিল্লিতে বিক্ষোভ বা জন সমাবেশ মানেই যন্তর মন্তর?

নিট বিতর্কের প্রতিবাদ হিসেবে ন্যায্য বিচারের দাবিতে যন্তর মন্তরে অনশন করছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। পথে নেমে প্রতিবাদ করছে ছাত্রসমাজ, অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। আর সে প্রতিবাদের ক্ষেত্র হিসেবে আলোচিত হচ্ছে যন্তর মন্তর। সাম্প্রতিক বহু বিক্ষোভের মতো এবারও এ স্থানেই প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

অথচ যন্তর মন্তর আসলে জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। কিন্তু আজ তা বিক্ষোভের স্থল হিসেবে প্রসিদ্ধ। কবে থেকে শুরু হল এ বিষয়টি? এর জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৯৩ সালে। সে বছর সংসদের কাছাকাছি এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আর তার ফলে নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার ও শহরের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে যন্তর মন্তর রোডকে প্রতিবাদের কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

গত শতকের নয়ের দশকের আগে দিল্লিতে মুখ্য প্রতিবাদের স্থল ছিল বোট ক্লাব। সেখানকার লনেই জমায়েত করতেন বিক্ষোভকারীরা। ১৯৮৮ সালে বিষয়টা চরমে ওঠে যখন ৫ লাখ কৃষক জমায়েত করেন। ফলে চারপাশ যেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই সময় থেকে বোট ক্লাবে জমায়েত নিষিদ্ধ করার দাবি উঠতে থাকে। সেটি কার্যকর করা হয় ১৯৯৩ সালে।

রাজধানীতে যে কোনও ধরনের জনসভা বা প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তর একটি সহজে প্রবেশযোগ্য স্থান হিসেবে রয়ে গিয়েছে সেই থেকে। এই মুহূর্তে যন্তর মন্তরে চলতে থাকা সিজেপির দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কর্মসূচির মতো কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোলাহল ও যানজটের সমস্যা সৃষ্টি হয়। তবু প্রশাসনের কাছে নিজেদের কথা পৌঁছে দিতে চাওয়া নাগরিকদের কাছে এ স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ।

আসলে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দূরত্ব অনেকটাই। ফলে এখানে বিক্ষোভজনিত যানজট ইত্যাদির প্রভাব ওই অঞ্চলে পড়ে না। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এখানে করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি নাগরিকদের মৌলিক অধিকারেরই অংশ। যদিও তা করতে হবে আইন মেনে।

চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের পরোক্ষভাবে ‘তেলাপোকা’ (ককরোচ) ও সমাজের পরজীবী বলে উল্লেখ করেন। চরম এ অপমানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন করেন। অতি দ্রুত ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এ দলটির ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

২০ জুলাই (সোমবার) সিজেপির ডাকে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুরো মধ্য দিল্লি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

পুলিশের নজিরবিহীন সহিংসতার পর আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন যে তারা আপাতত নতুন কোনো সড়ক পদযাত্রা করবেন না। তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১