Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি অর্থনীতি
  7. খেলাধূলা
  8. চাকরি-বাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনের গল্প
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচনী হাওয়া
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেসবুকে ব্ল্যাক মেইল করে অসামাজিক কাজে বাধ্য করানোর সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ৮

নিউজ রুম
জুন ২৬, ২০২৪ ৮:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

লাখোকণ্ঠ প্রতিবেদক:ফেসবুকে ব্ল্যাক মেইল করে অসামাজিক কাজে বাধ্য করানোর সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ৮ । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টেলিগ্রামে লোভনীয় চাকুরি দে ওয়া, মডেল বানানো এবং মেধা-অন্বেষণের নামে অল্প বয়সী তরুণীদের কাছ থেকে কৌশলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও হাতিয়ে নিয়ে তা দিয়ে ব্ল্যাক মেইলের মাধ্যমে জোরপূর্বক তাদেরকে দেহব্যবসায় নামানোর ভয়ংকর এক চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান এবং তার খালাতো ভাই শেখ জাহিদ বিন সুজন মিলে এই চক্রটি গড়ে তুলেছিল। চিকিৎসা বিদ্যার আড়ালে অল্প বয়সী তরুণীদের ফাঁদে ফেলে যৌণ নির্যাতনের পাশাপাশি অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি ও টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ম্যাসেঞ্জারে এ সংক্রান্ত সার্ভিস প্রদান করে গত ৭ বছরে তারা প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় করেছে।

যেভাবে কাজ করতো চক্রটি:।

শুরুতে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন, কখনও মডেল তৈরি, কখনও বা ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতো চক্রটি। এতে যারা সাড়া দিত তাদের নিয়ে টেলিগ্রামে গ্রুপ খুলতো। তারপর তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে বিদেশী বায়ারদের কাছে পাঠানোর কথা বলে মেয়েদের অন্তর্বাস পরিহিত ছবি হাতিয়ে নিত চক্রটি। হাতিয়ে নেওয়া সেসব অর্ধনগ্ন ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাদের বাধ্য করা হতো নগ্ন হয়ে ভিডিও কলে ক্যাম সার্ভিসে যুক্ত হতে। এসব সার্ভিস গ্রহণ করতো দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা চক্রটির হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার, যারা একটি নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে ওই গ্রুপগুলোতে যুক্ত থাকতো।চক্রটি ভিডিও কলের সব কিছু গোপনে ধারণ করে রাখতো। এরপর মেয়েদের বাধ্য করা হতো চক্রটির গ্রাহকদের সঙ্গে রিয়েল সার্ভিস বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌণ সম্পর্ক স্থাপনে। সেসবও একই কায়দায় গোপনে ধারণ করে রাখা হতো। এভাবে চক্রটির হাতে আধুনিক যৌণ দাসীতে পরিণত হয়েছিল শত শত ভূক্তভোগী তরুণী। দীর্ঘদিন যাবৎ অনুসন্ধান করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এই চক্রের মূল হোতা ও তার প্রধান সহযোগীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে সিআইডি প্রধান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এর একটি চৌকষ টিম গত ২৫/০৬/২০২৪ খ্রি অভিযান পরিচালনা করে যশোর, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর ও ঢাকা থেকে এই চক্রের মূল হোতা ১। মোঃ মেহেদী হাসান (২৫) ও তার প্রধান সহযোগী ২। শেখ জাহিদ বিন সুজন (২৬) ৩। মোঃ জাহিদ হাসান @ কাঁকন (২৮) ৪। তানভীর আহমেদ @ দীপ্ত (২৬) ৫। সৈয়দ হাসিবুর রহমান (২৭) ৬। শাদাত আল মুইজ (২৯) ৭। সুস্মিতা আক্তার @ পপি (২৭) ও ৮। নায়না ইসলাম (২৪) কে আটক করতে সক্ষম হয়।

 

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশ-বিদেশে চক্রটির রয়েছে শক্তিশালী একটি নেটওয়ার্ক। নানা নামে তাদের শতাধিক চ্যানেলে গ্রাহক সংখ্যা কয়েক লাখ। বিভিন্ন বয়সী নারীদের ভিডিও কল ও দেহ ব্যবসায় বাধ্য করে এবং গোপনে ধারণকৃত সেসব ভিডিও বিক্রি করে চক্রটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় করেছে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থে এ চক্রের সদস্যরা যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা এবং ঢাকায় বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছে। নির্মাণ করেছে আলিশান বাড়ি। তাদের আত্মীয়-স্বজনের ব্যাংক একাউন্টেও বিপুল অর্থ জমিয়ে রাখার তথ্য মিলেছে। অর্থ লেনদেনের জন্য তারা ব্যবহার করতো এমএফএস বা মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস। এছাড়া ক্রিপ্টো কারেন্সিতেও তাদের হাজার হাজার ডলার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে নিজেদের আড়াল করার সকল কলা-কৌশলও এই চক্রের জানা। ফলে শত শত মোবাইল সিম ব্যবহার করলেও তাদের কোনোটিই প্রকৃত ন্যাশনাল আইডি দিয়ে নিবন্ধন করা নয়। এক্ষেত্রে তারা নিম্ন আয়ের মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিত। সামান্য অর্থ দিয়ে তোলা হতো সীম কার্ড। কন্টেন্ট আদান-প্রদান ও সাবস্ক্রিপশনের জন্য ছিল টেলিগ্রাম প্রিমিয়াম একাউন্ট এবং বিভিন্ন পেইড ক্লাউড সার্ভিস। অল্প বয়সী ভয়ানক চতুর এই দুই মেডিকেল শিক্ষার্থীর জিম্মায় কয়েক হাজার নারী রয়েছে। আছে টিকটক, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম সেলিব্রেটিও। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপে গোপনে ধারণ করা প্রায় ১০ লক্ষ ন্যুড ছবি ও ২০ হাজার এডাল্ট ভিডিও এর সন্ধান পাওয়া গেছে।

 

আটককৃতদের কাছ থেকে মামলায় বর্ণিত টেলিগ্রাম আইডি ‘identifier’, “জনস্বার্থে আমরা” নামক টেলিগ্রাম আইডি ও এজাহারে বর্ণিত টেলিগ্রাম গ্রুপ ১) Jonosarthe Amra (জনস্বার্থে আমরা), (২) Deshi Pompom 14, (৩) Hasib & Silk Trusted Agency, (৪) Direct Desi Vids, (৫) Dhaka Real Service Centre, (৬) Rafsan Hoque Entertainment Agency, (৭) Bangladesh Escort Agency, (৮) International Escort Service, (৯) Model and celebrity Zone, (১০) BD Escort service সহ অসংখ্য টেলিগ্রাম গ্রুপ, বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলের অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের কয়েক লক্ষ ন্যুড ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়াও আটককৃতদের কাছ থেকে মোট ১২টি মোবাইল ফোন, ২০টি সীম কার্ড, ১টি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেক বই জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপির পল্টন থানায় পর্নোগ্রাফি আইন, পেনাল কোড ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা নং- ৩৯ তারিখ- ২৬/০৬/২০২৪ খ্রিঃ দায়ের করা হয়েছে।

 



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।