জেলার মনির হোসেনের তদারকিতে বদলেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের চিত্র


শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশের সময় : ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ ৯০
জেলার মনির হোসেনের তদারকিতে বদলেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের চিত্র

একসময় অনিয়ম, দুর্নীতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং বন্দিদের স্বজনদের হয়রানির অভিযোগে আলোচিত ছিল চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার। নিয়মের বাইরে সাক্ষাৎ, মোবাইল ও ব্যাগ সংরক্ষণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিভিন্ন সুবিধা পেতে দালালদের শরণাপন্ন হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই উঠত। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করছেন কারা কর্তৃপক্ষ, কারামুক্ত কয়েকজন বন্দি এবং কারাবন্দিদের স্বজনরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের প্রবেশ থেকে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত প্রতিটি কার্যক্রম কারাবিধি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের পরিচয় যাচাই শেষে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম মেনেই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অতীতের মতো দালালদের আনাগোনা কিংবা নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি।

কারাবন্দিদের স্বজনরা জানান, আগে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ থাকলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। নির্ধারিত নিয়মেই সাক্ষাৎ করা যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত কোনো অর্থ দাবি করা হচ্ছে না।

কারা সূত্র জানায়, জেলার মনির হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত তদারকি, সেবার মানোন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কারাগারের প্রতিটি কার্যক্রম কারাবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, উন্নতমানের খাবার, চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ক্যান্টিনের কার্যক্রমেও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অসুস্থ বন্দিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। কারাগারের ভেতরে কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা বন্দির বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানকারীদের উৎসাহিত করতেও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জামিনে মুক্ত হওয়া কয়েকজন বন্দি জানান, বর্তমানে কারাগারে আগের তুলনায় শৃঙ্খলা অনেক বেশি। সব বন্দির সঙ্গে সমান আচরণ করা হচ্ছে। খাবারের মান উন্নত হয়েছে এবং কোনো সিন্ডিকেট যেন বাড়তি সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি করছে। জেলার মনির হোসেন প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে বন্দিদের খোঁজখবর নেন বলেও তারা জানান।

কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেল সুপার মির্জা শহিদুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় জেলার মনির হোসেন কারাগারকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত একটি মডেল কারাগারে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারকে ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারাগার পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক পরিবর্তন ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে জেলার মনির হোসেন বলেন, “কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিটি কার্যক্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালনা করার চেষ্টা করছি। সেবার মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কারাবন্দিদের আমরা সমাজের বোঝা হিসেবে দেখি না। তারা কারামুক্ত হওয়ার পর যেন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যে শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশীলন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কারাগার শুধু শাস্তি কার্যকরের জায়গা নয়, সংশোধনেরও একটি প্রতিষ্ঠান।”

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১