জীবনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা লাভের ১০ উপায়


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
জীবনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা লাভের ১০ উপায়

লাখোকণ্ঠ ডেস্ক: জীবনে সবাই সুখ, স্বস্তি ও নিরাপত্তা খোঁজে। সুখের সন্ধানে নানা দিকে ছোটাছুটি করে। কিন্তু অনেকেই সুখ ও দুঃখের স্রষ্টা মহান আল্লাহর দ্বারস্থ হতে ভুলে যায়। প্রকৃতপক্ষে মানবজীবনে সুখ, স্বস্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় ইসলাম।

নিম্নে তা লাভের কয়েকটি উপায় বর্ণনা করা হলো—

১. নিখাদ ঈমান : নির্ভেজাল ও নিখাদ ঈমান মানবজীবনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা লাভের প্রধান উপায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই সৎপথপ্রাপ্ত।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৮২)

২. দ্বিনের ওপর দৃঢ় থাকা : চরম বিপদ ও হুমকির মুখেও যারা দ্বিন ও ইসলামের ওপর অটল থাকে, আল্লাহ তাদের জীবনে প্রশান্তি দান করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মুমিনদের ওপর সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা বৃক্ষতলে তোমার কাছে বাইআত গ্রহণ করল, তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি অবগত ছিলেন; তাদেরকে তিনি দান করলেন প্রশান্তি এবং তাদেরকে পুরস্কার দিলেন আসন্ন বিজয়।’ (সুরা : ফাত্হ, আয়াত : ১৮)

৩. বেশি বেশি ভালো কাজ করা : নেক আমল বা পুণ্যের কাজ মানুষের জীবন থেকে অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা দূর করে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন…তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্য নিরাপত্তা দান করবেন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৫)

৪. আল্লাহর ওপর ভরসা করা : যে বান্দা প্রতিটি কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে আল্লাহ তাঁর জীবনকে সহজ করে দেন। আল্লাহর ঘোষণা হলো, ‘তাদের লোকে বলেছিল, তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় কোরো; কিন্তু এটা তাদের ঈমান দৃঢ়তর করেছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্মবিধায়ক। তারপর তারা আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহসহ ফিরে এসেছিল, কোনো অনিষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করেনি।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৭৩-১৭৪)

৫. আল্লাহর জিকির করা : আল্লাহর জিকির ও স্মরণ মানবজীবনে প্রশান্তি আনে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সাবধান! আল্লাহর জিকিরে হৃদয়গুলো প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাআদ, আয়াত : ২৮)

৬. আল্লাহর সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক গড়ে তোলা : আল্লাহর সঙ্গে যখন বান্দার সম্পর্ক ভালোবাসার হয়, তখন আল্লাহ বান্দাকে পৃথিবীর যাবতীয় দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে মুক্তি দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘সাবধান! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৬২)

৭. যাবতীয় পাপ পরিহার করা : পাপ-পঙ্কিলতা মানবজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর শাস্তি ডেকে আনে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের প্রত্যেককেই আাামি তার অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়েছিলাম : তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড ঝড়, তাদের কাউকে আঘাত করেছিল মহানাদ, কাউকে আমি প্রোথিত করেছিলাম ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছিলাম নিমজ্জিত।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪০)

৮. আল্লাহভীতির জীবন যাপন করা : তাকওয়া বা আল্লাহভীতির জীবনযাপন পার্থিব জীবনের যাবতীয় সংকট দূর করে, জীবনকে সহজ করে এবং পাপ মার্জনা করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন, তাঁকে ধারণাতীত উৎস থেকে জীবিকা দান করবেন…আল্লাহকে যে ভয় করে আল্লাহ তার সমস্যা সমাধান সহজ করে দেবেন…যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার পাপ মোচন করবেন এবং তাকে দেবেন মহাপুরস্কার।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২-৫)

৯. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা : আল্লাহর কৃতজ্ঞতা বান্দার জীবনে আল্লাহর অনুগ্রহ বৃদ্ধি করে আর অকৃতজ্ঞতা বান্দার জীবনের সুখ ও সমৃদ্ধি কেড়ে নেয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন এক জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেখানে আসত সর্বদিক থেকে তার প্রচুর জীবনোপকরণ। অতঃপর তা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করল, ফলে তারা যা করত তজ্জন্য আল্লাহ তাদেরকে আস্বাদ গ্রহণ করালেন ক্ষুধা ও ভীতির আচ্ছাদনের।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১১২)

১০. অন্যায় ও অনিয়মের প্রতিবাদ করা : যখন সমাজে অন্যায় ও অনিয়মের প্রতিবাদ করা হয় না, তখন সমূহ বিপদ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আল্লাহ বনি ইসরাঈলের প্রতি অভিশাপ ও ধ্বংস আপতিত হওয়ার কারণ তুলে ধরে বলেন, ‘তারা যেসব গর্হিত কাজ করত তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৭৯) আল্লাহ সবার জীবনে সুখ, স্বস্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা দান করুন। আমিন।

মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে জাকির নায়েকের পোস্ট