
ইসমাইল হোসেন, ঢাকা: ক্ষমতার প্রভাব ও প্রতিপত্তির প্রলোভনে ফাঁসিয়ে এক গৃহবধুকে পরকীয়ার আড়ালে ধারাবাহিক ভাবে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল সদর যুবলীগের আহ্বায়ক আবু সায়েম তালুকদার বিপ্লবের বিরুদ্ধে। শুধু ধর্ষনই নয়, ধারাবাহিক ধর্ষনের একপর্যায়ে গৃহবধু অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে অবৈধ গর্ভপাতের মাধ্যমে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে যুবলীগ নেতা বিপ্লব। গৃহবধু এতে রাজী না হলে তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে শারীরীক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে। সংসার টিকিয়ে রাখতে গৃহবধুকে এই সন্তানের পরিচয় তার স্বামীর বলে চালিয়ে দিতে পরামর্শ দেয় ঐ যুবলীগ নেতা। বর্তমানে ঐ গৃহবধু তার ৪ বছর বয়সী সন্তানের সঠিক পিতৃপরিচয়ের দাবীতে যুবলীগ নেতা আবু সায়েম তালুকদার বিপ্লবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ১৫ জুলাই ২০২১ তারিখে ঢাকা জজ কোর্টের এডভোকেট জাকিরুল ইসলামের মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এডভোকেট জাকিরুল ইসলাম মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কুমিল্লা নিবাসী গৃহবধুর সাথে ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে পরিচয় হয় বর্তমান টাঙ্গাইল সদর যুবলীগের আহ্বায়ক লম্পট বিপ্লবের সাথে। বিপ্লব তখন থেকেই তাকে শারীরীকভাবে ভোগ করার জন্য নানারকম প্রলোভন দিতে থাকে। যদিও বিপ্লব ভালো করেই জানতেন যে তিনি বিবাহিতা। গৃহবধু প্রেমের প্রস্তাবে রাজী না হলে তাকে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের বড় পদধারী নেতা হিসেবে নানাবিধ হয়রানী করার ভয় ও রাজী হলে হাই-ফাই জীবনের আশ্বাস দিয়ে প্রলুব্ধ করে টাঙ্গাইল সদর যুবলীগের আহ্বায়ক আবু সায়েম তালুকদার বিপ্লব। একপর্যায়ে বিপ্লবের হয়রানীর ভয় ও প্রলোভনে ফেঁসে গিয়ে অবৈধ শারীরীক সম্পর্কে জড়ায় গৃহবধু।
ঘটনাসুত্রে প্রকাশ, ৬ আগস্ট ২০১৪ তারিখে আবু সায়েম তালুকদার বিপ্লব ঐ গৃহবধুর কুমিল্লা সদর এর গোবিন্দপুর এলাকার বাসায় দেখা করতে যায়। ঐসময় গৃহবধুর স্বামী বাসায় ছিলেননা। আপ্যায়ন করার জন্য গৃহবধু নাস্তা নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করতেই তাকে জাপটে ধরে বিছানায় ফেলে দিয়ে জোরপূর্বক গৃহবধুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে বিপ্লব। ধর্ষন শেষে গৃহবধুকে বিয়ে করবে বলে আশ্বস্তও করে সে। ঐদিনের পর থেকে বিয়ের আশ্বাসে প্রায়ই গৃহবধুর সাথে শারীরীক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন বিপ্লব। একপর্যায়ে গৃহবধুর মনে অনুশোচনা হলে বিপ্লবকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে ধর্ষিতা গৃহবধু। কিন্তু বিপ্লব আজ-কাল করে তাকে ঘোরাতে থাকে এবং নিয়মিতভাবে শারীরীক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে। গৃহবধু বিয়ের জন্য বেশি চাপ দিলে তার স্বামীকে সব বলে দিবে জানিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে শারীরীক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে। সবশেষ গৃহবধুর সাথে লম্পট বিপ্লবের শারীরীক সম্পর্ক হয় ১৮ জানুয়ারী ২০১৯ইং তারিখে। এর দু মাস পর গৃহবধু বুঝতে পারেন যে তিনি বিপ্লবের সন্তানের মা হতে চলেছেন। বিষয়টি জানিয়ে বিপ্লবকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে বিপ্লব তার এই বাচ্চা গর্ভপাত করে নষ্ট করার জন্য বলে। কিন্তু গৃহবধু তাতে রাজী না হলে বিপ্লব গৃহবধুকে এই সন্তান তার স্বামীর বলে চালিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তার সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অনেক চেষ্টা করেও বিপ্লবের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন গৃহবধু। পরবর্তীতে গত ২০ অক্টোবর ২০১৯ ইং তারিখে গৃহবধুর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
বর্তমানে এই গৃহবধু তার কন্যাসন্তানের সঠিক পিতৃ-পরিচয়ের দাবীতে আইনের দ্বারস্থ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে টাঙ্গাইল সদর যুবলীগের আহ্বায়ক লম্পট বিপ্লব তাকে নানাভাবে হুমকী প্রদর্শন করে আসছেন। এমনকি গৃহবধু সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করবেন জানতে পেরে গৃহবধুকে মুঠোফোনে জানায়, ২ লক্ষ টাকা দিয়ে সাংবাদিক কিনে রেখেছি। তুই আমার কিছুই করতে পারবি না।
মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে গৃহবধু বলেন, ‘ভাই আপনাকে তো দুই লক্ষ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রাখছে। আপনি কি আর আমার বিষয় নিয়ে নিউজ ছাপাবেন? বিপ্লব তো আমার সব শেষ করে দিছে। তবে আপনারা নিউজ ছাপেন বা না ছাপেন আমি এই সন্তানের সত্যিকারের পিতৃ-পরিচয়ের জন্য আদালতে যাবো। বাচ্চার ডিএনএ টেস্ট করার অনুমতি চাইবো আদালতের কাছে। বিপ্লবের সাথে ডিএনএ টেস্ট করলেই বাচ্চার পিতা কে তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।
উক্ত বিষয় নিয়ে টাঙ্গাইল সদর যুবলীগের আহ্বায়ক আবু সায়েম তালুকদার বিপ্লবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এসব বিষয় নিয়ে কোনপ্রকার কথা বলতে চাচ্ছি না। তাছাড়া এগুলো আমার জন্য তেমন কোন ইস্যু না। পারলে আইনের মাধ্যমে আমাকে কিছু করে দেখান।
উল্লেখ্য, গত ২০২১ সালে বিপ্লব টাঙ্গাইল সদরে তার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ইলেকশন করে ব্যাপক টাকা (প্রায় অর্ধকোটি) খরচ করেও পরাজিত হয়! শুধু তাই নয়, যুবলীগের নেতা হিসেবে এলাকার সব উন্নয়ন মূলক টেন্ডার এর কাজ সে ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বাগিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিপ্লব ও তার বাহিনী ছাত্রজনতার উপর ব্যাপক হামলা ও নির্যাতন চালায়।
আপনার মতামত লিখুন :