
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি আফটারশক (অনুকম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসের আলতামিরা এলাকায় একটি ২২তলা ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। সেখানে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মানুষকে হাহাকার করতে দেখা গেছে। স্বেচ্ছাসেবীরা টর্চলাইটের আলোতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির কারণে কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘মাইকুয়েতিয়া’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, লা গুয়াইরা, ক্রুজিল্লো, কারাবোবো ও মিরান্ডা রাজ্যগুলো এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাজধানীর নিকটবর্তী লা গুয়াইরা অঞ্চলের চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। সতর্কতাস্বরূপ অনেক ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড না ঘটে।
ভেনেজুয়েলার এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটে যেকোনো ধরনের সাহায্য করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সক্ষম। আমি আমাদের সব সরকারি সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
ভেনেজুয়েলার এই কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। তবে কলম্বিয়া কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে যে এই ভূমিকম্পের ফলে কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই। এর আগে ১৯৯৭ সালে ভেনেজুয়েলায় এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৭৩ জন ও ১৯৬৭ সালে কারাকাসে ২৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় এই জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার কিছুক্ষণের মধ্যেই জাপানের উত্তরাঞ্চলেও একটি ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে সেখানে কোনো হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :