
দক্ষিণ আমেরিকান ভূরাজনীতিতে ভেনেজুয়েলা ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত শীতল ও বৈরি। তবে এই মানবিক সংকটে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্সি থেকে জারি করা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি ‘গভীরতম সংহতি’ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে যেকোনো ধরনের তীব্র রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ভেনেজুয়েলার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, বলিভিয়ার জনগণের ‘হৃদয় ও প্রার্থনা এখন ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে রয়েছে। বলিভিয়া পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভেনেজুয়েলাকে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আমরা।
এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ভেনেজুয়েলার এই সংকটে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাকাসে অবস্থিত ব্রাজিলিয়ান দূতাবাসকে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে ব্রাজিল সরকার দ্রুততম সময়ে সেখানে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠাতে পারে।
উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেছেন। উরুগুয়ে সরকার জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা যেভাবে প্রয়োজন মনে করবে, সেভাবেই তারা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের জন্য প্রস্তুত।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কারাকাসের মন্তালবান এলাকায়, ভূগর্ভের ১৩ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দ্বিতীয় তীব্র কম্পনটি আঘাত হানে। সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে অঞ্চল থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
ইউএসজিএস প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ। নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। এছাড়া ভূমিকম্পের পর তীব্র আফটারশক (অনুকম্পন), ভূমিধস ও মাটির তারল্যীকরণের মতো মারাত্মক ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :