ইসলামে ধ.র্ষ.ণ ও ব্য.ভি.চা.রে.র ভ.য়া.ব.হ শাস্তি


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ২১ মে, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ইসলামে ধ.র্ষ.ণ ও ব্য.ভি.চা.রে.র ভ.য়া.ব.হ শাস্তি

ইসলামে ধর্ষণ ও ব্যভিচারকে মানবসমাজের জন্য ভয়াবহ, জঘন্য ও ধ্বংসাত্মক অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত পাপ নয়, বরং নৈতিকতা, পরিবারব্যবস্থা ও সামাজিক শৃঙ্খলা ধ্বংসকারী গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

“তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীল ও খুবই খারাপ পথ।” (সূরা বনী ইসরাইল: ৩২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট, ইসলাম শুধু ব্যভিচারকেই নয়, বরং তার দিকে নিয়ে যায় এমন সব পথও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

হাদিসে এসেছে—

“চোখের ব্যভিচার হলো দেখা, কানের ব্যভিচার হলো শোনা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো বলা, হাতের ব্যভিচার হলো ধরা, পায়ের ব্যভিচার হলো হাঁটা…” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭)

ব্যভিচার ও ধর্ষণের অবস্থান

ইসলামে ব্যভিচারকে বড় গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যভিচারী পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই শরিয়তে নির্ধারিত শাস্তির বিধান রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—

“ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশ বেত্রাঘাত করো।” (সূরা নূর: ২)

ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি অবিবাহিত ও বিবাহিতদের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে নির্ধারিত। হাদিসে এসেছে, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে এবং অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বেত্রাঘাতের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমাজ থেকে দূরে রাখার বিধান রয়েছে।

ধর্ষণ সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামে ধর্ষণকে জুলুম ও ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না; শাস্তি শুধু অপরাধীর জন্য নির্ধারিত।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হলে তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি, বরং ধর্ষককে হদের শাস্তি দেওয়া হয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৫৯৮)

উল্লেখ্য, যেসব শাস্তির পরিমাণ ও পদ্ধতি কোরআন-হাদিসে সুনির্ধারিত রয়েছে, সেগুলোকে হদ বলে।

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, গনিমতের সম্পদ থেকে প্রাপ্ত এক দাসীর সঙ্গে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এক দাস জোরপূর্বক ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, যার ফলে ওই দাসীর কুমারীত্ব নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় হযরত উমর (রা.) ওই দাসকে শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করেন এবং তাকে নির্বাসন দেন। তবে যেহেতু দাসীকে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়েছিল, তাই তাকে কোনো শাস্তি প্রদান করা হয়নি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৯৪৯)

ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে ইসলামি ব্যাখ্যা

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী ধর্ষণ দুই ধরনের অপরাধকে একত্র করে—

একটি হলো ব্যভিচার, অন্যটি হলো জোর-জবরদস্তি ও ভয়ভীতি সৃষ্টি।

সহিংসতার অংশের জন্য আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের শাস্তি হলো হত্যা, শূলিতে চড়ানো, হাত-পা কেটে দেওয়া অথবা দেশান্তর।” (সুরা মায়িদা: ৩৩)

ইসলামের মূল অবস্থান

ইসলামে ব্যভিচার ও ধর্ষণ উভয়ই গুরুতর কবিরা গুনাহ। তবে ধর্ষণের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী সম্পূর্ণ নির্দোষ, শাস্তি কেবল অপরাধীর জন্য নির্ধারিত।

ইসলামের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে পবিত্রতা, নিরাপত্তা ও নৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা।

ইসলাম নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১