
মোহাম্মাদ এরশাদ, ঢাকা: জগতের সবচেয়ে ভারী বাহন নাকি পিতার কাঁদে সন্তানের লাশ। টগবগে সন্তানের লাশ বুকে পাথর নিয়ে কাঁধে তুলতে হয়েছে। এবং মৃত শরীর পরম আদরে সাড়ে তিন হাত কবরে রেখেছিলেন । এই ব্যথা কত ভয়ানক শুধু একজন পিতায় বুঝেন।
গতকাল রাত ১:৫০ মিনিটের ঢাকায় ধানমন্ডি কিডনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নাজমুল হক ( মারুফ)। নাজমুল হক মারুফ নোয়াখালী কবিরাট উপজেলার ৬ নং ধানশালিক ইউনিয়ন লামছি প্রসাদ গ্রামের বজলুল রহমানের নতুন বাড়ির মো. নুরুল হক নিজামের তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে মারুফ সকল আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব প্রতিবেশীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন । নাজমুল তেজগাঁও কলেজের ২২- ২৩ শিক্ষাবর্ষের দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থী ছিলেন। চল চলে লাজুক প্রকৃতির তারুণ্যের চেহারা।
হাসি মাখা মুখখানি এখনো তার চেহারার ভঙ্গিতে নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলার বাসীর হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে। এলাকাবাসী হতবাক এবং নির্বাক। মারুফ ফুটফুটে সুন্দর একটা ছেলে। স্বল্প সময়ে চলে যাবে ওপারে, পাড়ি জমাবে কেউ ভাবতে পারছে না। কেউ মেনে নিতে পারছে না।
কিন্তু নিয়তির নির্মম যে পরিহাস তা তো মেনে নিতে হবে। মৃত্যু চিরন্তন সত্য। কেউ আগে কেউ পরে চলে যেতে হবে ওপারে। মৃত্যুরুর স্বাদ সকল প্রাণীকে গ্রহণ করতে হবে। দাদার বজলুল হকের বড় সন্তানের বড় ছেলে এবং অনেক আদরের স্নেহের নাতি। অনেক স্বপ্ন ছিল নাতিকে নিয়ে।
ভালো পড়াশোনা করে স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিবে। পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। দাদার মুখ উজ্জ্বল করবে সমাজে নায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে। দাদার স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে গেল। মারুফের সেজে চাচা আমেরিকাতে গ্রীন কার্ড প্রাপ্ত আর চার নাম্বার চাচা ইতালিতে আছেন
আপনার মতামত লিখুন :