
সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় মাধবদী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৮ জুলাই ভোরে মাধবদী থানার নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে সৌদি প্রবাসী মিলনের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হামলা চালায়। ডাকাতদের প্রতিহত করতে গেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিলনের বড় ভাই মো. শাহজাহান (৫৬) নিহত হন। এ সময় তাঁর চাচা মো. সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত হন। ডাকাতরা বাড়ি থেকে প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার ও দুটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মাধবদী থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৬ ও ৩৯৭ ধারায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাধবদী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মাত্র নয় দিনের মধ্যে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাধবদীর জুবায়ের হোসেন (২০), আশিক আহমেদ (২৩), মোজাহিদ রহমান অপু (২২), সুজন মিয়া (২৫) ও ফারুক মিয়া (৩০), আড়াইহাজারের রোমান (২৮) এবং রূপগঞ্জের হৃদয় মিয়া (২২)।
তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন ১১ জুলাই খড়িয়া এলাকায় সংঘটিত ডাকাতি এবং দিগন্ত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত বা জড়িত আসামি।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোট আট হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে জুবায়েরের কাছ থেকে চার হাজার, আশিকের কাছ থেকে দুই হাজার এবং সুজনের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে থানা পুলিশ ও ডিবির একাধিক দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নরসিংদী জেলায় ডাকাতি, হত্যা ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :