তাদের হাতকড়া পরাতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব: খাদ্যমন্ত্রী


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
তাদের হাতকড়া পরাতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব: খাদ্যমন্ত্রী

সামরুজ্জামান (সামুন), কুষ্টিয়া:কি কারনে হঠাৎ চালের দাম বাড়লো সেই কারণ খুঁজতে কুষ্টিয়ার খাজানগরে অভিযান চালিয়েছেন খোদ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। বুধবার দুপুরের দিকে তিনি কুষ্টিয়ার খাজনগর চালের মোকামে উপস্থিত হন।

 

এসময় খাদ্যমন্ত্রী একটি মিলের গুদামে প্রায় ৪০০ টন ধানের মজুত খুঁজে পান। সুবর্ণা অটো রাইস মিলের মালিক জিন্নাহ আলম অন্য একটি মিলের গুদামে অবৈধভাবে এ ধান মজুত করেছিলেন। মন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এছাড়া একই ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি আটা মিলের গুদামে ১৫০ টন গমের অবৈধ মজুত পেয়ে সেটিও সিলগালার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রী।

 

এসময় মন্ত্রী পর্যায়ক্রমে খাজানগর মোকামের অন্যতম মিনিকেট চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশ এগ্রো ফুড, সুর্বণা এগ্রো, স্বর্ণা এগ্রো ফুড, আল্লার দান এগ্রো এবং রশিদ এগ্রো ফুড পরিদর্শনে যান। এসব চালকল ও এর গুদাম ঘুরে ঘুরে দেখেন।

 

প্রায় প্রতিটি মিলেই কিছু না কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান তিনি। এর মধ্যে আল্লার দান এগ্রো ফুডের একটি গুদামে প্রায় ৪০০ টন ধানের মজুত দেখতে পান খাদ্যমন্ত্রী। পরে জানা যায়, ওই ধানের মালিক সুর্বণা এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী জিন্নাহ আলম। এরপর জিন্নাহ আলমের আটার মিলে প্রায় ১৫০ টন গমের মজুতও খুঁজে পান মন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুদাম দুটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন।

 

মন্ত্রী এসময় সংশ্লিষ্ট মিল মালিকদের ভর্ৎসনা করেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেনকেও ভর্ৎসনা করেন। তিনি খাদ্য নিয়ন্ত্রকে বলেন, এসব অনিয়ম কেন এতদিন চোখে পড়েনি? সবকিছু যদি আমাকে দেখতে হয়, তাহলে তোমরা এখানে কী করো?

 

এসময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, অবৈধ মজুতসহ কেউ কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে মন্ত্রীর সঙ্গে খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাখাওয়াত হোসেন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহতেশাম রেজাসহ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং চালকল মালিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

অভিযান শেষে মন্ত্রী কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মত বিনিময় সভা করেন।

কুষ্টিয়ায় চালকল মালিকদের খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ধানের দাম কারা বেশি চাচ্ছেন, তাঁদের নাম-ঠিকানা আমাকে দেন। যাঁরা দাম বেশি চাচ্ছেন, এ সভাতে বসে যদি তাঁদের হাতে হাতকড়া পরাতে না পারি, তাহলে আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব। আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ দিলাম।

 

এসময় চালকল মালিকেরা চুপ হয়ে যান।

বুধবার বেলা সাড়ে তিনটায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে করণীয়’ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে এ সভা করা হয়। মন্ত্রী সভায় উপস্থিত চালকল মালিকদের বলেন, আপনারা প্রতিযোগিতা করে ধান কেনা বন্ধ করেন। দেখবেন, ধানের দাম ব্যবসায়ীরা কমিয়ে দেবেন। ধান তো ভোক্তারা কিনবে না। তখন চালের দামও নিম্নমুখী হয়ে যাবে। মন্ত্রী বলেন যারা ধান চাল অবৈধ্যভাবে মজুদ করে রেখেছে তাদের

মজুতের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।