বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর পূর্ণ হলো আজ: প্রত্যাবাসন কতদূর?


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ ২৬
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর পূর্ণ হলো আজ: প্রত্যাবাসন কতদূর?

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট নিজ দেশ মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার ও বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রাণরক্ষায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু হয়েছিল। এরপর কেটে গেছে নয়টি বছর। প্রতিবছরই স্বপ্ন দেখানো হয় বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের।

কিন্তু মিয়ানমারে চলমান সংঘাত, রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতা, রোহিঙ্গাদের পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা শরণার্থী সংকটের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যৎ কতদূর তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। নাগরিকত্ব নিয়ে আরাকানে ফিরতে না পারলেও রোহিঙ্গাদের কারণে ক্যাম্পে বাড়ছে নানা অপরাধ। এতে হুমকিতে পড়ছেন স্থানীয়রাও।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কয়েকটি ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা জড়ো হয়ে তাদের প্রতি জুলুমের দিনকে স্মরণ করবেন। বিচার চাইবেন বিশ্ব দরবারে। পাশাপাশি জানাবেন জন্মভূমিতে ফেরার আকুতি।

এদিকে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার কারণে কমে আসছে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক বরাদ্দ। ৩ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গাকে তাদের বাসিন্দা বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমার। একলাখকে বাঙালি ও অপরাধী বলেছে।

সরকারের শরণার্থী বিষয়ক কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরে গেছে। সরকার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এ সংকট সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন হলেও শুধু ঘোষণা বা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা, মিয়ানমারের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মর্যাদার নিশ্চয়তা।

রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’র সভাপতি সৈয়দ উল্লাহ বলেন, প্রত্যাবাসন হওয়া বা না হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ধাপ ও কাজ রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে একটি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান প্রয়োজন। শুধু মুখে বললে প্রত্যাবাসন হয় না। ২০১৮ সাল থেকে শুনছি প্রত্যাবাসন আজ হবে, কাল হবে। কিন্তু এসব কথার কোনো প্রতিফলন দেখছি না।

সৈয়দ উল্লাহর মতে, বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই এখন কাজ করতে হবে। জাতীয় নীতিতে কী চলছে, বৈশ্বিক নীতিতে কী পরিবর্তন হচ্ছে এবং মিয়ানমারের নীতি কোনদিকে যাচ্ছে এসব বিবেচনায় নিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এটি প্রথমত মিয়ানমারের, দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের এবং তৃতীয়ত অন্য দেশগুলোরও সমস্যা।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার মিয়ানমারের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টিকে ব্যবহার করে মিয়ানমার আন্তর্জাতিকভাবে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে যে রোহিঙ্গারা মূলত বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক কোনো ‘গেমের’ অংশ হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আমরা বাংলাদেশের ওপর কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করছি না। আমরা শুধুমাত্র শান্তি চাচ্ছি।

রোহিঙ্গা যুবনেতা ও আরাকান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার সংকট নয়; এটি একটি আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক সমস্যা। রাখাইন বা আরাকানের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। আরাকানের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে।

মুজিব বলেন, প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে চীন ও ভারতের মতো প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও পদক্ষেপ নিতে হবে।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের অবমাননাকরভাবে উপস্থাপনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরাতো ভিক্ষুক নই। আমরা আমাদের বাপ-দাদা, চৌদ্দগুষ্টির জন্মভূমি আরাকানের মানুষ। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশেও যেন রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়নকর্মী ফারিহা হোসাইন বলেন, ৯ বছর ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু জরুরি মানবিক সহায়তার দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। রোহিঙ্গাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নয়, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হলে সমাধান আসবে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, প্রত্যাবাসন শুধু সীমান্তের ওপারে পাঠানোর বিষয় নয়, তাদের মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রেখে রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা অব্যাহত রাখা দরকার। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যেমন জরুরি, তেমন এ সংকটের প্রভাব বহন করা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থও দেখতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের উপদেষ্টা সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, শরণার্থী সংকটে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সমাধানের মধ্যে প্রত্যাবাসন, স্থানীয়ভাবে একীভূত হওয়া এবং তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন রয়েছে। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে একীভূত হওয়ার বাস্তব সুযোগ না থাকায় প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ সীমিত পরিসরে হলেও চালু রাখা যেতে পারে। সংখ্যায় সীমিত হলেও তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

কুতুপালং এলাকার জনপ্রতিনিধি প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পাশাপাশি বাস করলেও বিভিন্ন কারণে দুই সম্প্রদায়ের মাঝে চাপ ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যকার বিভাজন এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘাতও তাদের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রোহিঙ্গাদের নিজেদের মাঝে ঐক্য তৈরি এবং প্রত্যাবাসনসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাদের নিজস্ব বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজার সাব-অফিসের প্রধান মার্সেল কলুন বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, কিন্তু কীভাবে সেই প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন হবে তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো নেই।

মিয়ানমারে চলমান সংঘাত বন্ধ হওয়াকে প্রত্যাবাসনের প্রথম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ, জমি-বাড়ির অধিকার এবং নাগরিকত্ব বা মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত তৈরি করতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তাই প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন। বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় শরণার্থী নীতিমালা বা কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিষয়ে প্রশাসন, গবেষক, রোহিঙ্গা প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বিত আলোচনা প্রয়োজন। আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট সুপারিশ তৈরি করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কক্সবাজার উন্নয়ন আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ রুবেল বলেন, প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও জীবিকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না। আবার দীর্ঘদিন ক্যাম্পে বসবাসরত একটি প্রজন্মকে কেবল ত্রাণনির্ভর করে রাখলে তাদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। একইসঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতার কথাও বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন। তবে ৯ বছর পর এসে শুধু ‘প্রত্যাবাসন হবে’- এমন ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাস্তবতা বিবেচনায় একটি সুস্পষ্ট কৌশল, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা।

প্রত্যাবাসন কতদূর?

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৭ সালের শেষ দিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় মিয়ানমারের অং সান সু চি সরকার। ওই বছর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতেও সই করে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলার এক পর্যায়ে ২০১৯ সালে দুই দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতিতে রোহিঙ্গারা আস্থা রাখতে না পারায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়।

এরপর আসে করোনাভাইরাস মহামারী, রোহিঙ্গাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগে ঢিল পড়ে। বিশ্বজুড়ে সেই সংকটের মধ্যেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সু চির দ্বিতীয় দফার সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন সামরিক জান্তা জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

এখন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আর সেভাবে আলোচনায় নেই।

সামরিক জান্তা মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের কয়েক দিন আগে চীনের নেতৃত্বে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল। তার চূড়ান্ত ফল আর পাওয়া যায়নি।

ওই সময় বাংলাদেশ আশা করেছিল, ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে হয়ত প্রত্যাবাসন শুরু করা যাবে। সেই পরিকল্পনা আর আলোর মুখ দেখেনি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকারে রাখা বাংলাদেশ সরকার বারবার অভিযোগ করে আসছে, আন্তর্জাতিক মহল প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছে।

এখন মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের কারণে প্রত্যাবাসনের আলোচনা আপাতত বন্ধ, উল্টো রাখাইনে যুদ্ধের কারণে ২০২৪ সালের পর নতুন করে অনুপ্রবেশ করেছে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা জেনারেল মিন অং হ্লাইং নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন দিয়ে এখন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন; চেষ্টায় আছেন আসিয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি আদায়ের।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে চীন। অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোর করার প্রস্তাবও দিয়েছে চীন।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর মিয়ানমার সরকারের আচরণে অনেকগুলো পরিবর্তন দেখার কথা বলছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান।

এখনকার গতিতে এগোলে বছর দুয়েকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে বলেও ধারণা করছেন এই বিশ্লেষক।

তিনি বলেন, সবকিছু মিলিয়ে আসলে হতাশ হওয়ার কোনো জায়গাই আমি এখন দেখছি না। তবে দুটা জিনিস আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, পলিসি বা ডিপ্লোম্যাটিক ইনিশিয়েটিভ যথেষ্ট নয়। সেই সাথে আমাদেরকে আরও অনেকগুলো কাজ করতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে ফেরত পাঠানোর জন্য যে ধরনের সহায়ক পরিবেশ দরকার, যে ধরনের রাজনৈতিক যোগাযোগ দরকার এবং অবকাঠামো বা বাণিজ্য বিষয়ক যে জায়গাগুলো আছে, সেগুলোকে উন্নত করলে আমার মনে হয় না যে, এই প্রত্যাবাসন খুব বেশি কঠিন হবে।

সাহাব এনাম খান বলেন, শতভাগ প্রত্যাবাসন এই মুহূর্তে হয়ে যাবে ভাবলে সেটা অতিচিন্তা হয়ে যাবে। তবে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়াটা, আমার ধারণা যে, বছর খানেক, বছর দুয়েকের মধ্যেই শুরু করা সম্ভব।

মিয়ানমার ও রাখাইন রাজ্যে অনেকগুলো পরিবর্তন, দেশটির প্রতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও মানবিক সহায়তায় ধস নামার মত বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন আটকে থাকার কথা বলেন তিনি। সবকিছু মিলিয়ে দেখলে, আমাদের অতীতে সরকারগুলোর যতটুকু ব্যর্থতা, তার চেয়ে বেশি হল ভূরাজনৈতিক এবং ভূ-কৌশলগত পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না।

বর্তমান সরকারের উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকার কথা তুলে ধরে সাহাব এনাম খান বলেন, এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন এখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আন্তরিক হচ্ছে এবং এই আন্তরিকতাটাকে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা বাংলাদেশ সরকারের প্রধান কর্তব্য।

কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র কনভেনশনাল ডিপ্লোমেটিক বা পলিটিক্যাল চ্যানেল মনে করলে হবে না। সেখানে ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট এবং হোল অব দ্য গভর্মেন্ট এবং হোল অফ সোসাইটি অ্যাপ্রোচ নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সংযোগ ঘটানো দরকার।

তবে আমি মনে করি, শুধুমাত্র রাখাইনের স্থিতিশীলতা আমাদের মূল ইন্টারেস্ট হওয়া উচিত না। ওভারঅল মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা দরকার, যাতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে মিয়ানমার একটা ভূমিকা রাখতে পারে এবং সেই সাথে যাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন টেকসই হয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে পড়ে সাড়ে ৭ লাখের অধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বনভূমিতে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারে আগে থেকে আশ্রয় নেওয়া আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা ও নতুন করে আসা আরও দেড় লাখসহ বর্তমানে ১২ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা ৩৩টি ক্যাম্পে বাস করছে। কখন তারা স্বদেশে ফিরে পারবে তার নিশ্চয়তা পেতে রোহিঙ্গারা প্রায় কাকুতি করছে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

 

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১