দুর্গাপুরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০২৪, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
দুর্গাপুরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা

মোবারক হোসেন শিশির,দুর্গাপুর(রাজশাহী):রাজশাহীর দুর্গাপুরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খোলাবাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজারে যত্রতত্র বোতলে ভরে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের মতো দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে দুষ্কৃতকারীদের হাতে সহজেই দাহ্য পদার্থ পৌঁছে যাওয়াশ ঝুঁকি বাড়ছে অন্যদিকে দোকান গুলোতে অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার ও ডাইকেমিক্যাল পাউডার না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিটি মূহূর্ত থাকেন আতঙ্কে। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব ব্যবসা চললেও দেখার কেউ যেন নেই। তবে দ্রুত লাইসেন্সবিহীন জ্বালানি তেলের ব্যবসার খোঁজখবর নিয়ে বৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালাবে বলেন জানান ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার কলেজ মোড়, বদিরমোড়, দেবীপুর, আলিপুর, কানপাড়া, আমগাছী, পালীবাজার সহ একটি পৌরসভা ও সাত ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক হাট-বাজারে শতাধিক দোকানে অনুমোদন ছাড়া জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন দোকানে দুই লিটার, এক লিটার অথবা আধা লিটারের প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রল, অকেটন ও ডিজেল ভরে পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। যে কেউ ইচ্ছে করলেই এসব বোতলভর্তি জ্বালানি তেল ক্রয় এবং ব্যবহার করতে পারেন যে কোনো কাজে। অথচ জ্বালানি তেল বিক্রির জন্য আধাপাকা ঘর, অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার, মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র এবং ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক; কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে জ্বালানি তেলের ব্যবসা পরিচালনা করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সেরও মেয়াদ উত্তীর্ণ।
দোকানে নেই কোনো অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। এসব দোকানে ভেজাল তেল সরবরাহের পাশাপাশি পরিমাণে কম ও লিটারে ৫থেকে ১০ টাকা দাম বেশি রাখায় একদিকে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে খোলাবাজারের মিশ্রিত তৈল ক্রয় করে গাড়ির ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। খোলাবাজারে বোতলে ভরে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় দুষ্কৃতকারীদের হাতে সহজেই দাহ্য পদার্থ পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া এভাবে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সাধারণ মানুষ প্রতিটি মূহূর্ত থাকেন আতঙ্কে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার সদরের জ্বালানি তেল বিক্রেতা মেসার্স খাদেম স্টোর এর স্বত্বাধিকারী খাদেমুল ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দুর্গাপুরের বিভিন্ন মোড়ে আমি সেই বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। আমাদের সহ উপজেলায় তেল বিক্রেতাদের মধ্যে দুই একটি বৈধ লাইসেন্স রয়েছে তাও একই
স্থানের লাইসেন্স করে বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে অনেক ব্যবসায়ী এর বিরুদ্ধে। এবং তেল বিক্রেতাদের অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার, মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র এবং ট্রেড লাইসেন্স থাকা লাগবে। লাইসেন্স গুলি দুই একটি ব্যবসায়ীর থাকলেও নেই শত শত তেল ব্যবসায়ীর, খোলা বাজারে এই অবাধে তেল বিক্রির কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটার ও আশঙ্কা রয়েছে। এবিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলেও জানান তিনি।

দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের
গোপালপুর ভিটাপাড়ার জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের বাড়ির আশেপাশে তেলের কোন ডিপো না থাকায় বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে জ্বালানি তেল কিনতে হয়। এতে পরিমাপে কম থাকে এবং মূল্যও বেশি দিতে হয়। এসব তেল ব্যবহারে প্রায়ই গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়।

দুর্গাপুর উপজেলার পৌর এলাকার বাসাইল গ্রামের মোটরসাইকেল চালক সোহাগ ইসলাম বলেন, লিটারে ৫ টাকা বেশী লাগলেও বাড়ীর পাশের মোড়ের চা দোকানে বোতলে পেট্রোল পাওয়ায় দুই তিন কিলোমিটার দূরে তেলের ডিপো পেট্রোল পাম্পে তেমন কেউ আর যায়না। খোলা বাজারের এই তেল দিয়ে গাড়ী চালালে গাড়ীর ইঞ্জিনের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতারনার স্বীকার হন সাধারণ জনগন।

দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ইনচার্জ জানান, খোলাবাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির বিষয়ে কোন আইন নেই। আমি অনেক উপজেলায় চাকরি করেছি, উপজেলার চাইতে দুর্গাপুরে দেখলাম ভিন্ন চিত্র, দুর্গাপুর উপজেলার হাটঘাট পাড়া মহল্লা, মোড় সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দেদারসে বোতলজাত করে খোলা বাজারে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। এ সকল দোকানে নেই কোন অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও ডাইকেমিক্যাল পাউডার রাখা দরকার।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, লাইসেন্সবিহীন জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়টিতে আমি আগে অবগত ছিলাম না। তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১