ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার!


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার!

জুয়েল রানা নবীনগর প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় নগদ ১০ লাখ টাকাসহ একজন ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণের অভিযোগে আওয়ামীলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নেতা হলেন উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বিটঘর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ও তার আপন ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও বিগত উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা কবির হোসেন আহমেদ।

ধৃত দুই ভাই তথা দুই আওয়ামীলীগ নেতাকে আজ সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নবীনগর থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।

নবীনগর থানার ওসি মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা আজ নিশ্চিত করেছেন।

তবে এ ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

মামলার এজাহার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম (৪৪) রবিবার দুপুরে তার ছোটভাইকে ইটালিতে পাঠানোর উদ্দ্যশ্যে একটি ব্যাগে করে নগদ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য বিটঘর ইসলামী ব্যাংক শাখায় যাচ্ছিলেন। এসময় টিয়ারা বিটঘর সড়কের গলাকাটা ব্রীজের কাছে পূর্ব থেকে উত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দুই ভাইকে অস্ত্রের মুখে মারধর করতে করতে অপহরণ করে। পরে স্থানীয় আওয়ামীলীগের দুই নেতার বাড়িতে দুই ভাইকে নিয়ে আটকে রাখে নির্যাতন চালায়। সেখানে এক পর্যায়ে আটক অবস্থায় অপহৃত মামলার বাদী ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম কৌশলে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুরো ঘটনা জানালে, পুলিশ রাতে তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নবীনগর থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই পুলিশ প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ওই দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী ফরিদুল ইসলাম বলেন,’ ‘আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ওই দুই ভাইয়ের সাথে আমার জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিলো। এরই জের ধরে ওরা দুই ভাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের দুই ভাইকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা লুটে নেয়। আমরা আমাদের লুট হওয়া টাকা এখন ফেরত চাই ও এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই কোর্টে চালান হয়ে যাওয়ায়, ধৃতদের সাথে কথা বলা যায়নি। তবে এলাকার একটি সূত্র জানায়, পুরো ঘটনাটি সাজানো ও কাল্পনিক। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আক্কাস আলী রুবেল আজ দুপুরে বলেন,’এ ঘটনায় ১৭ জনকে আসামি করে অপহরণ ও মারামারির অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে। টাকা উদ্ধারসহ বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান চলছে।’