মেহেরপুরে শীতে কর্মজীবী মানুষের লড়াই। 


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২৪, ২:৫০ অপরাহ্ণ
মেহেরপুরে শীতে কর্মজীবী মানুষের লড়াই। 

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ যে শীত পড়ছে মনে হচ্ছে কলজি ছিড়ি যাচ্ছে। আর চলতি পারছিনি। তাই বলে কি পেট মানবে ? না খাটলি পেট চলবে না। এ জন্যি রিক্সা নিয়া বের হওয়া। চলতি পারছিনা তারপরও আসতি হচ্ছে । রিক্সা না চালালে তো পেট মানবে না। সকাল থেকে কোন যাত্রি পাওয়া যায় নি। এমনি অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন শহরের রেজাউল চত্বরে অপেক্ষারত রিক্সাচালক গাংনী ভিটাপাড়ার আলীম । তিনি চার সন্তানের জনক । আলীম জানান, প্রতিদিনই কাজের সন্ধানে বের হতে হয় তার। গেল এক সপ্তাহ ধরে যা ঠান্ডা তার সাথে শৈত্য প্রবাহ তাতে বের হওয়া কষ্টকর। তার পরও সংসারের ঘানি টানতে বের হওয়া লাগে। শুধু আলীমরা নয়, তার মতো গরীব অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের জীবন জীবিকার তাগিদে শীতের সাথে নিত্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ।

 

টানা কয়েকদিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শেষে একদিন বিরতির পর শনিবার থেকে আবারও শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহ সেই সাথে গুড়িগুড়ি বৃষ্টির পর শুক্রবার ভাল থাকলেও আজ শনিবার দিনের তাপমাত্রা বাড়লেও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের না হলেও বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। জীবন জীবিকার তাগিদে তাদের বের হতে হচ্ছে। । ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। দেখা দিচ্ছে জ্বর স্বর্দি কাশিসহ ঠান্ডা জনিত রোগ।

 

চেংগাড়া মাঠে তামাক ক্ষেত পরিচর্যা করছিলেন মহেশপুরের লতিফ ও রমজান। গায়ে গরম কাপড় জড়ানো আর পরিশ্রম করার পরও কাঁপছিলেন। হাত পায়ে শিশির লেগে যেন তাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বরফের মতো হয়ে গেছে। এতো শীতে কাজে আসার ব্যাপারে তারা জানান, ঠান্ডা আর শীতের দোহাই দিলে তো পেট চলে না। সংসারের লোকজনের দু’মুঠা ভাতের ব্যবস্থা করতে হলে কষ্ট করতে হবে তামাক চাষি বারিক জানান, ঠান্ডার ভয় করলে ও পেট চলবেনা।

 

গাংনী ট্রাফিক মোড়ে ফুটপাতে জবুথবু হয়ে কিছু বরই পেয়ারা আর জলপাই নিয়ে বসে আছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আসমত। আজ তার কোন বেচা বিক্রি কম গত তিনদিন বেশী বিক্রি হয়নি। প্রতিকুল আবহাওয়ার কারনে লোকজনের চলাচল সীমিত হওয়ায় বেচা বিক্রি কম বলে জানালেন তিনি। তবুও সংসারের প্রয়োজনে বসে থাকতে হচ্ছে । একই কথা জানালেন তসবি টুপি ও আতর বিক্রেতা জামাল।

 

চুয়াডাঙ্গা হাটকালুগঞ্জে অবস্থািত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার আজ শনিবার সকাল ৯ টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের মতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় এমন শীত অনুভূত হচ্ছে । এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলাকে দিনেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সাধারণত শহরে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হলেও ১০টা পর্যন্ত বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকছে।

 

উত্তর থেকে ধেয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাস ঠান্ডাজনিত রোগবালাই বেড়ে চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলাতে রোটাভাইরাস ডায়রিয়া, নিউমানিয়া, অ্যাজমাসহ শ্বাসকষ্টের রোগ নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন ও চিকিৎসা নিচ্ছেন । হাসপাতালে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ৪২ জনবকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া গেছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রয়েছে ১০জন।

 

গাংনী হাসপাতালর আবাসিক মেডিকল অফিসার আব্দুল আল মারুফ বলেন, শীত মৌসুমে মায়েদের সতর্কভাবে চলাফেরা করতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। বাসি খাবার খাওয়া যাবে না। ছয় মাস পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। প্রয়োজনীয় সব টিকা দিতে হবে। হাতে-পায়ে মোজা ও গরম পোশাক পরাতে হব। ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছ নিতে হবে। মায়েদের যাতে ঠান্ডা না লাগে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।দ