রাজনৈতিক ভেলকি বাজিতে সাংবাদিককে আসামি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি!


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক ভেলকি বাজিতে সাংবাদিককে আসামি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি!

নবীনগর প্রতিনিধি, ব্রাক্ষণবাড়িয়া:নবীনগরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,জনপ্রতিনিধি সকলের নিকট আমাদের সবিনয়ে অনুরোধ আপনাদের কেউ কেউ বিভিন্ন ঘটনার জন্মদাতা,মিমাংসা কর্তা,কিছু ঘটনার স্বাক্ষী অথবা প্রত্যক্ষদর্শী হতে পারেন। সমাজের ভালো কাজে আপনাদের সহযোগিতা সমর্থন অংশগ্রহণকে আমরা সম্মান করি,সাধুবাদ জানাই।কেউ কেউ মন্দ কাজ করলে আমরা সেটা প্রকাশ করে থাকি,হয়তো কেউ কেউ স্বজনপ্রীতি করে সেটা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকি,আবার কেউ কেউ এড়িয়ে চলি।একজন সংবাদকর্মী হিসেবে এরচেয়ে বেশি আমাদের আর কোনো অবস্থান আমার জানা নেই।এর বেশি হয়ে যদি কোন সংবাদকর্মীদের সম্পৃক্তা থাকে তবে সে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত সাংবাদিকতা বলে আমি মনে করি। নবীনগরে অনেক সংবাদকর্মী রয়েছে।ব্যক্তি মনের মতের আচরণের পার্থক্য থাকলেও উদ্দেশ্য ও আদর্শ কিন্তু একই।

 

বিগত কিছুদিন ধরে নবীনগরে বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ঘটনা ঘটেই চলেছে।মামলা হামলা হুমকি ধামকি বিক্ষোভ মিছিল সবই হচ্ছে এই নগরের বিভিন্ন প্রান্তে! কিন্তু কেন,কি কারণে,কি উদ্দেশ্যে সবকিছু পরিপূর্ণ না বুঝলেও মোটামুটি বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে নিশ্চয়ই এগুলো কিছুটা বিশ্লেষণ করার জ্ঞান বুদ্ধিও আমাদের রয়েছে।

 

ন্যায় নীতির প্রশ্নে অথবা আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কিংবা প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে যেসব ঘটনা চলছে সেগুলো মুষ্ঠিমেয় কিছু লোক করে যাচ্ছেন,তারজন্য আমাদের উপজেলার সাধারণ মানুষ কিংবা কোনো সংবাদকর্মী দায়ী না। আমরা ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে জনসম্মুখে প্রকাশ করে থাকি। কাউকে কটাক্ষ করতে,হেয় করার অপচেষ্টা কিংবা কাউকে সুবিধা পাইয়ে দেয়া আমাদের কাজ নয়। আমরা কারো ঢাল হয়েও কাজ করতে চাই না।

 

তবে আমি ব্যক্তিগত মনে করি আমাদের রিপোর্টিং এর কারণে কেউ উপকৃত হয় আবার কারো ক্ষতি হতে পারে কিন্তু সেটা কোন আক্রোশের কারণে নয় পেশাগত দায়িত্ব পালন করার কারণে।সেইজন্য আমাদেরকে আপনারা কেউ কেউ বলীর পাঠা বানাবেন না। আপনাদের নীতি আদর্শ,হিংসা প্রতিহিংসা,আধিপত্য প্রতিশোধের খেলায় আমাদেরকে জড়াবেন এমনটা আশাকরি না।আমাদের কোন সহকর্মী যদি লাইনচ্যুত সাংবাদিকতা করে থাকে অথবা আমরাও কোন ভুল করে থাকি তবে আমাদের সাথে কথা বলে বিষয়গুলো নিস্পত্তি জন্য আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

 

আমরা আপনাদের কাউকেই প্রতিপক্ষ মনে করিনা

,আপনারাও আমাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করবেন না। রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিভাজনের সঙ্গে আমরা সংবাদকর্মীদের না জড়ালেই উত্তম।হয়তো আমাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা,পছন্দ অপছন্দের নেতা বা দল থাকতে পারে তবুও আমরা সাংবাদিকতা যতটুকু সম্ভব নিরপেক্ষতার সঙ্গে করতে চাই।

 

নতুন সরকারের শপথ শেষ হওয়ার কয়দিন না যেতেই আমাদের নবীনগরে একজন মোঃ আক্তারুজ্জামান

সংবাদকর্মীকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয় কাজ। সে নবীনগর থানা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। যেই ঘটনায় তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে, ঐ দিন আমিও তার সাথে ছিলাম। সেটা আমি খুব কাছে থেকে অবলোকন করেছিলাম।কারণ সেদিন সলিমগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে আমিও উপস্থিত ছিলাম। পেশাগত দায়িত্ব পালনে আমাদের সব জায়গায় যেতে হয়।

 

গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক এর উপর অতর্কিত হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সলিমগঞ্জ বাজারে আওয়ামীলীগের অফিসে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সংসদ এবাদুল করিম বুলবুল মহোদয় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে ঢাকা ফেরার পথে সাবেক এমপির গাড়িবহরে হামলা চালাই একদল দুর্বৃত্তরা। তখন স্থানীয় লোকজন দূর্বৃত্তদের একজনকে গণধোলায় দিয়ে আটক করেন। আমরা সংবাদ কর্মী হিসাবে গাড়িবহরের হামলার বিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রতিবেদন করি।

 

ঐ সময় সহকর্মী আক্তারুজ্জামান ও আমি এক সাথে থেকে বিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি।সহকর্মী আক্তারুজ্জামান কাকে কি করলো,কার সাথে ঝামেলা করলো সেটাই তো দেখলাম না! ঐ দিন কি নিয়ে ঝগড়া হলো, কে মারামারি করলো সবই কিন্তু নিজ চোখে দেখেছিলাম। আমার সহকর্মী ঘটনায় জড়িত না থাকার পরও তাকে কেন মামলার আসামি করা হয়েছে?

 

তাহলে কি সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই তাকে আসামি করা হয়েছে ?কাজটি বেশ খানিকটা অবাক হওয়ার মতো। আমি একজন সংবাদকর্মী হিসেবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রত্যাশা করি আমার সংবাদকর্মীকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি করা হবে।