আমের জেলায় নতুন সম্ভাবনা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘এমডি-২’ আনারস চাষে সাফল্য


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
আমের জেলায় নতুন সম্ভাবনা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘এমডি-২’ আনারস চাষে সাফল্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: আমের জন্য খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে বিশ্বখ্যাত “এমডি-২” জাতের আনারস চাষ। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) উদ্যোগে এ অঞ্চলে উচ্চমূল্যের অপ্রচলিত ফল চাষ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বিএমডিএ বাস্তবায়নাধীন “বরেন্দ্র এলাকায় উচ্চমূল্য অপ্রচলিত ফল ও ঔষধি ফসল জনপ্রিয়করণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)” এর আওতায় সদর উপজেলার মহিপুর মৌজার কৃষক মোঃ মোশারফ হোসেনকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিনামূল্যে ‘এমডি-২’ জাতের উন্নত আনারসের চারা সরবরাহ করা হয়। এ জাতটি ‘সুপার সুইট’ বা ‘গোল্ডেন সুইট’ নামেও পরিচিত।

প্রকল্প পরিচালক মোঃ সেলিম কবীরের নির্দেশনা এবং বিএমডিএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (কৃষি) মোঃ হাফিজুল কবীরের তত্ত্বাবধানে কৃষক মোশারফ তার আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে আনারসের চারা রোপণ করেন। মাত্র এক বছরের মধ্যেই ফলন পেতে শুরু করায় তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও আশাবাদী। কৃষক মোশারফ হোসেন জানান, বিএমডিএ কর্মকর্তাদের পরামর্শে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে চারা সংগ্রহ করে নিজ বাগানে রোপণ করেন। রোপণের সময় অল্প পরিমাণ জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে তেমন কোনো অতিরিক্ত খরচ করতে হয়নি। ফলে কম খরচে লাভজনক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষিবিদ মোঃ হাফিজুল কবীর বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনারসসহ বিভিন্ন ফলের চাষ দিন দিন বাড়ছে। আমবাগানের ফাঁকা স্থানে আনারস চাষ একটি কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ হতে পারে।” স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুধু আম নয়, আনারস উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বিএমডিএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ রিজিয়ন কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশিদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনারস চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আমবাগানের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে সাথী ফসল হিসেবে আনারস চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। এতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে কৃষকের আয়।

 

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০