
কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে সার পৌঁছে দেওয়া, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কৃষি মন্ত্রণালয় ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার ডিলার সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালা–২০২৫ (সংশোধিত)’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একাধিক সার ডিলারশিপের মালিক হতে পারবেন না। ডিলারদের নিজস্ব গুদাম এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকাও বাধ্যতামূলক।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জীবননগর পৌরসভা ও কয়েকটি ইউনিয়নে একই পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক সার ডিলারশিপ থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন জীবননগর বাজারের হাজী তবিবর রহমান ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সোহেল ট্রেডার্স; উথলী ইউনিয়নের জহির উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা খাতুন; আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের আব্দুল খালেক ও তাঁর ছেলে শরিফুল ইসলাম। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম যথাক্রমে মেসার্স তবিবর রহমান, মেসার্স সোহেল ট্রেডার্স, মেসার্স জহির ট্রেডার্স এবং মেসার্স ভাই ভাই বীজ ভান্ডার বলে প্রতিবেদকের কাছে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাকা ইউনিয়ন ও আন্দুলবাড়ীয়া এলাকার মিজানুর রহমানের মেসার্স মিজানুর রহমান, রায়পুর ইউনিয়নের হাসাদহ বাজারের মীর ইসমাইল হোসেনের মেসার্স রাসেল এন্টারপ্রাইজ এবং আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের খন্দকার মো. নাজমুস সালামের মেসার্স এম এস এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়েও স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব ডিলারশিপের মালিকানা, লাইসেন্সের ধরন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ডিলার নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরেও অন্য ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে বিক্রি করছেন। গত জুলাই ও আগস্টে সার সরবরাহ ও বণ্টন নিয়ে সমন্বয়হীনতা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলেও তাঁরা জানান। তবে সার সংকটের সঙ্গে ডিলারশিপসংক্রান্ত অনিয়মের সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের মেসার্স এম এস এন্টারপ্রাইজের মালিক খন্দকার মো. নাজমুস সালামের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা না হয়েও ওই এলাকায় ডিলারশিপ নেওয়া এবং ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ব্যবস্থাপক মামুন বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে অভিযোগের বিষয়ে নাজমুস সালামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জীবননগর বাজারের মেসার্স তবিবর রহমান ও সোহেল ট্রেডার্সের মালিক হাজী তবিবর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর সার বিক্রির সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সভাপতি অথবা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে। অভিযোগ নিয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উথলী ইউনিয়নের জহির উদ্দিন বলেন, “একটা লাইসেন্স আমার এবং একটা আমার স্ত্রী নাসিমা খাতুনের নামে আছে। এগুলো পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের পর তিনি ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। তবে প্রতিবেদক প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, কোথাও অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সেল তদন্ত করে ডিলারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সার ডিলারশিপের মালিকানা, লাইসেন্সের শর্ত এবং বরাদ্দ ও বিক্রির হিসাব যাচাই করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :