
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টায় নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, ডিবির ওসি মো. হাসিবুল্লাহ হাবিবসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর গ্রামে একটি বাড়িতে দেয়াল টপকে প্রবেশ করে কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবার মাথায় টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই রাতে আরও দুটি বাড়িতে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।
এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি একই এলাকার আরও কয়েকটি বাড়িতে প্রবেশ করে ঘুমন্ত ব্যক্তিদের মাথায় আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের হয়।
এছাড়া গত ৭ মে বদলগাছী উপজেলার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় তিনটি বাড়িতে একই কায়দায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) ও বাকপ্রতিবন্ধী বৃষ্টি (২০) গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
পুলিশ সুপার জানান, ধারাবাহিক এসব ঘটনার তদন্তে জেলা পুলিশ, ডিবি এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার সফিপুর কোনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে থেকে ১০ জুন ভোরে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পাতহাট এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং প্রায় ১৬টি ঘটনার তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং দীর্ঘ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন বিষয়। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন; তার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো আদালত দেননি।
আপনার মতামত লিখুন :