
বিশেষ প্রতিনিধি :যোগদানের মাত্র সাত দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়েছে মৌলভীবাজারের নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামকে।
গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে এই তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরের মধ্যে তাকে জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে পুলিশ সদর দফতরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশে এই আকস্মিক প্রত্যাহারের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে দায়িত্বশীল সূত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা থেকে জানা গেছে, নেপথ্যে রয়েছে আড়াই কোটি টাকার এক বিশাল ‘বদলি চুক্তি’।নেপথ্যে আড়াই কোটির চুক্তি ও বিতর্কসম্প্রতি পুলিশ প্রশাসনে গুঞ্জন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ ওঠে যে, ‘আড়াই কোটি টাকার গোপন আর্থিক চুক্তি করে মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে বদলি বাগিয়ে নেন রিয়াজুল ইসলাম।’
চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ওই টাকা পরিশোধ না করার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা, যা পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের কারণেই তাকে এত দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো বলে নিশ্চিত করেছে সদর দফতরের একাধিক সূত্র।যোগাযোগে ব্যর্থতা ও নীরবতাএই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও আকস্মিক প্রত্যাহারের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসপি মো. রিয়াজুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনাটি ফাঁসের পর থেকেই তিনি গণমাধ্যম ও জনসাধারণের আড়ালে রয়েছেন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাঞ্চল্যএদিকে, মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় একজন জেলা পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের এই ঘটনাটি পুরো পুলিশ বিভাগ এবং মৌলভীবাজার জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
দুর্নীতি ও চুক্তিভিত্তিক বদলির বিরুদ্ধে এই কড়া অ্যাকশনকে প্রশাসনের একটি শুদ্ধি অভিযান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার গভীরে গিয়ে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের দাবির সত্যতা অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :