
পিবিআই ফেনী জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পিবিআই জানায়, গত ১২ মে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ারকাছাড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সৌদি আরব প্রবাসী মানিকের স্ত্রী রীনা আক্তারকে তাঁর নির্মাণাধীন ভবনের পাশের একটি কক্ষে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ভবনের পাশে রাখা বালুর নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মহরম আলী বাদী হয়ে ১৩ মে ফেনী সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর পিবিআইয়ের একটি বিশেষ ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি সাইফুল ইসলামকে (২৯) শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বায়েজিদ বোস্তামী থানার চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকার রূপসী পাহাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের চোছনা এলাকার বাসিন্দা। পিবিআই আরও জানায়, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকান থেকে নিহতের এক জোড়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। দোকান মালিক জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাইফুল ইসলাম প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ টাকায় কানের দুল বিক্রি করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। পেশায় রাজমিস্ত্রি সাইফুল পুলিশের কাছে জানান, কিস্তির টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে তিনি এ হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে রীনা আক্তার নির্মাণাধীন ভবনের দেয়ালে পানি দিতে গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাইফুল তাঁর কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বালুর নিচে চাপা দিয়ে চট্টগ্রামে আত্মগোপন করেন তিনি। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে। মামলার তদন্ত করছেন পিবিআই ফেনী জেলার পুলিশ পরিদর্শক কাউসার আলম ভূঁইয়া।
ফেনীর আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :