
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার খেয়াঘাট বাজার-আব্দুল্লাহপুর সড়ক সংস্কার কাজে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার বেজ মজবুত করতে উন্নত বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও, সেখানে কুশিয়ারা নদীর পচা পলি ও কাদাযুক্ত মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
কাজের ধীরগতি ও মান নিয়ে টেন্ডার গ্রহীতার সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার হাবিবুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় বর্তমানে ৩ মাস মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঠিকাদারের দাবি অনুযায়ী, রাস্তার পুরাতন ইট ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে LGED প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ২৬ লক্ষ টাকা সমমূল্য কেটে রেখেছে।
বালু সরবরাহে অনিয়ম:
সড়কটিতে বালু সরবরাহের দায়িত্বে আছেন পরিমল বাবু নামক এক ব্যক্তি। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ভালো বালুর পরিবর্তে কুশিয়ারা নদীর পলি ও কাদাযুক্ত বালু সরবরাহ করছেন। এই পলি মাটি দিয়ে রাস্তার কাজ করায় এর স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বালুর পরিবর্তে কাদা ব্যবহার করায় বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই রাস্তাটি দেবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ:২৬ লক্ষ টাকার ইট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরেও কেন বালুর পরিবর্তে পচা পলি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভিডিও ফুটেজেও রাস্তার কাজে কাদা ও আবর্জনা মিশ্রিত পলি ব্যবহারের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেছে। স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও ঠিকাদারি চক্র ও বালু সরবরাহকারী একটি সিন্ডিকেট দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রশাসনের আশ্বাস ও হস্তক্ষেপ কামনা:
সরকারি অর্থের এমন অপচয় রোধে এবং সড়কের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আব্দুল্লাহপুর ও খেয়াঘাট বাজারের সাধারণ মানুষ উপজেলা প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই বিষয়ে রাজনগর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ আব্দুল গনী-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামীকাল (কালকে) তিনি সরজমিনে অফিস পরিদর্শনে আসবেন এবং কাজের গুণগত মান কঠোরভাবে তদারকি করবেন।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই ‘পলি মাটি’ সরিয়ে সিডিউল মোতাবেক উন্নত বালু দিয়ে টেকসইভাবে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হোক।
আপনার মতামত লিখুন :