
বুধবার (১৭ জুন) সকালে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, টয়লেট, রান্নাঘর ও অন্যান্য সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের কারণে সেবাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। জনগণের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করতে নতুন হাসপাতাল স্থাপন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। কয়েকজন চিকিৎসক সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতার অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। এসব দ্রুত ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন। তিনি ওয়ার্ডের টয়লেট, রান্নাঘর এবং রান্নাঘরের হাত ধোয়ার বেসিনের নিচের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের বেডও তিনি নিজে পরীক্ষা করে দেখেন।
এর আগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে গিয়ে চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করেন তিনি। পরে মাস্টাররোলে নিয়োজিত কর্মচারীদের উপস্থিতিও যাচাই করেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগে অনিয়ম ও ফলাফল স্থগিতের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ আগামী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল করার বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল মান্নান, সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়ার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :