
পদ্মা নদীর তীর থেকে প্রায় ৮০০ মিটার পশ্চিমে অবস্থিত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কবির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে এখানে। তাঁর বহু গান, কবিতা, নাটক ও ছোটগল্পের সঙ্গে এই কুঠিবাড়ির স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী কুঠিবাড়ি দেখতে আসেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, কুঠিবাড়ির মূল ফটকের সামনে পানি জমে আছে। মুক্তমঞ্চের সামনেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ম্যুরালের পাদদেশ, জাদুঘরের আঙিনা এবং ফুল-ফলের বাগানের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে রয়েছে। কোথাও কোথাও পানিতে গাছ নুয়ে পড়েছে। দর্শনার্থীরা শুধু পাকা হাঁটার পথ ব্যবহার করে চলাচল করছেন।
রাজবাড়ীর পাংশা থেকে আসা দর্শনার্থী হাবিব খান বলেন, “কবির বাড়ি দেখার স্বপ্ন অনেক দিনের। এত দূর থেকে এসে দেখি পুরো এলাকা পানিতে ডুবে আছে। ছবি তোলার মতো একটি শুকনো জায়গাও নেই।”
রাজশাহী থেকে শিক্ষা সফরে আসা নাহিদ খান বলেন, “আমরা ৪০ জন শিক্ষার্থী এসেছি। ভেবেছিলাম মুক্তমঞ্চে বসে কবিতা আবৃত্তি করব এবং বাগানে ছবি তুলব। কিন্তু সব জায়গায় পানি জমে আছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
কুষ্টিয়া শহর থেকে পরিবার নিয়ে কুঠিবাড়িতে আসা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “কুঠিবাড়িজুড়েই জলাবদ্ধতা। অতিথিদের নিয়ে এসে বিব্রত হতে হয়েছে। এমন ঐতিহাসিক স্থাপনায় পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।”
দর্শনার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এটি শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়, আমাদের জাতীয় সম্পদ। প্রতিবছর বর্ষায় যদি এমন জলাবদ্ধতা হয়, তাহলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
কুঠিবাড়ির কর্মচারী সাকিব হোসেন বলেন, আগে সড়কের পাশের একটি সরু নালা দিয়ে কুঠিবাড়ির পানি বের হয়ে যেত। কিন্তু দখল ও দূষণের কারণে নালাটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান আল আমীন বলেন, “কুঠিবাড়িতে আমাদের নিজস্ব কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। আগে কুঠিবাড়ির পানি পাশের বিলে চলে যেত। এবার ভারী বৃষ্টির কারণে বিলের পানিও কুঠিবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।”
তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে কুঠিবাড়ির অবকাঠামো ও মূল্যবান প্রত্নসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় রবীন্দ্রপ্রেমীদের দাবি, সাময়িকভাবে পানি অপসারণের পাশাপাশি কুঠিবাড়িতে স্থায়ী ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এতে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের দুর্ভোগও কমবে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :