
স্থানীয় আড়তদারদের ভাষ্য, নোচনাহার বাজারে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য তুলনামূলক স্বচ্ছ পরিবেশ রয়েছে। বাজারটি উপজেলা সদর থেকে কিছুটা দূরে হলেও আড়তদার সমিতির উদ্যোগে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সমিতির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নোচনাহার আম আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে ঢাকা থেকে সবচেয়ে বেশি পাইকার এখানে আসেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের জন্যই এখানে অনুকূল পরিবেশ থাকায় এই বাজারের প্রতি তাঁদের আগ্রহ বেশি।
আমচাষি আব্দুল করিম বলেন, অন্য অনেক মোকামে ৪৮ থেকে ৫২ কেজিকে এক মণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু নোচনাহার বাজারে ৪০ কেজিই এক মণ হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে কৃষকেরা ওজনে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এ ছাড়া আড়তদার সমিতির তদারকির কারণে দরদাম ও ওজন নিয়ে তেমন কোনো বিরোধও হয় না।
ঢাকার বাদামতলী থেকে আসা পাইকার মো. শাহ আলম বলেন, বাজারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সন্তোষজনক। তবে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমের দামও বাড়ছে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাকে আম লোড করার পর বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক কল্যাণের নামে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। ঢাকা পৌঁছাতে একাধিক জায়গায় এ ধরনের অর্থ দিতে হওয়ায় ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
ট্রাকচালক মো. রাসেল বলেন, মোকাম থেকে বগুড়া পর্যন্ত অন্তত তিনটি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে অনেক সময় দুর্ব্যবহারেরও শিকার হতে হয়।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পোরসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, নোচনাহার আমের আড়তে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মন বলেন, আম ব্যবসাকে নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি করছে। ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁর আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :