ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগকর্মী ইজাজ হত্যার মূল আসামী অস্ত্রসহ গ্রেফতার


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ৮ জুন, ২০২৪, ৬:২৭ অপরাহ্ণ ২৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগকর্মী ইজাজ হত্যার মূল আসামী অস্ত্রসহ গ্রেফতার

বাহাদুর আলম,ব্রাহ্মণবাড়িয়া:ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী আয়াশ আহমেদ ইজাজ হত্যার ঘটনায় মূল আসামি হাসান আল ফারাবী জয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল (শুক্রবার) ভোরে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (০৮ জুন) দুপুরে পুলিশ সুপারের হল রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি মোহাম্মদ শাখাওয়াত বলেন, বুধবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় শহরের জেলা শহরের মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন শোভন (আনারস প্রতীক) বিজয়ী হওয়ার খবরে সমর্থকেরা বিজয় মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলেজপাড়া এলাকার খান টাওয়ারের সামনে আসলে আয়াশ আহমেদ ইজাজ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় তার বন্ধুরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। পরে ঢাকা নেওয়ার পথে সে মারা যায়। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাতে নিহত ইজাজের পিতা হাজী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলায় ১৬ জনেরর নামসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ কে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টর্সের একটি বিশেষ টিম, সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার দল অভিযান পরিচালনা করে গতকাল (শুক্রবার) ভোরে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে জয়কে গ্রেফতার করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, গ্রেফতারের পর হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারে কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলার সদর উপজেলার ভাটপাড়া ব্রিজের পাশে ঝোপের মধ্য থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারর জয় প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী পূর্ব বিরোধের জের ধরে ও এলাকায় তাদের একক আধিপত্য বজায় রাখার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইজাজকে মাথায় পিস্তল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে।

পুলিশের কাছে দেয়া জয়ের স্বীকারোক্ত অনুযায়ী, জালাল হোসেন খোকা এবং জয় খুবই ঘনিষ্ঠ, ইজাজও তাদের সাথে চলাফেরা করতো, তারা একই পাড়ার বাসিন্দা। কলেজপাড়া এলাকায় এককভাবে প্রভাব বিস্তার করতো খোকা ও জয়। তবে তাদের সব সিদ্ধান্ত ইজাজ ও তার সাথের কয়েকজন মেনে না নিয়ে কিছু কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতো। আর এ কারনেই ইজাজ ও তার কয়েকজন বন্ধুর প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলো খোকা ও জয় এবং এ বিরোধ আস্তে আস্তে চরম আকার ধারন করে।

জালাল হোসেন খোকা, হাসান আল ফারাবী জয় ও আরো বেশ কয়েকজন মিলে এলাকায় একক আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ইজাজ ও তার সাথে চলাফেরা করা কয়েকজনকে চরম শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২ জুন (রোববার) জেলা শহরের আরেকজনের কাছ থেকে খোকা অস্ত্রটি সংগ্রহ করে জয়কে দেয় এবং ইজাজকে মারার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

বুধবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষে কলেজপাড়া এলাকায় বিজয়য়োল্লাস করার জন্য ২০/২৫ জন লোক জড়ো হয় এবং সেখানে খোকা, জয় এবং ইজাজও ছিলো। খোকার সাথে কোন একটা বিষয় নিয়ে ইজাজের তর্ক-বিতর্কের মাঝেই জয় তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে ইজাজকে প্রকাশ্যে সবার সামনেই গুলি করে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত জয়কে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. জয়নাল আবেদীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. বিল্লাল হোসেন, সদর মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন ও ওসি ডিবি আবজাল হোসেনসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্হিত ছিলো।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১