
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার আসামের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে জাহাজটির যাত্রা শুরু হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল এ নৌপথের উদ্বোধন করেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত মিথানল পাঠানো হচ্ছে ঢাকার পানগাঁও নৌবন্দরে। জাহাজটি ব্রহ্মপুত্র নদের জাতীয় জলপথ-২ দিয়ে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ধরে গন্তব্যে যাবে। বগিবিল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পণ্যবাহী জাহাজটিকে মোট প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে হবে।
সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর ডিব্রুগড় থেকে আবারও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উদ্দেশে জাহাজ চলাচল শুরু হলো। তাঁর মতে, ব্রহ্মপুত্র নদকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একসময় পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকেই কলকাতা থেকে স্টিমার চলাচল করত সেখানে। চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহনে এ নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এ অঞ্চলের প্রচলিত নৌযোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। পরে ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পে নদীর তলদেশের পরিবর্তন এবং পণ্য পরিবহনে রেলপথের ব্যবহার বাড়ায় ডিব্রুগড় ঘাটের গুরুত্ব কমে যায়। ১৯৫৪ সালে সেখানে নিয়মিত বুকিং বন্ধ হয় এবং ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ভারত ও বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে নদীপথে বাণিজ্য ও নৌপরিবহনসংক্রান্ত প্রটোকল স্বাক্ষর করে। ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ী পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের ৮৯১ কিলোমিটার অংশকে ভারতের জাতীয় জলপথ-২ ঘোষণা করা হয়।
নতুন এ চালানের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র ও ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এ পথে নিয়মিত বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌবাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও জোরদার হতে পারে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :